উ. কোরিয়ায় যেখানে সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয় কিম পরিবার

৩২৩ বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো আইনজীবী নেই। নেই শুনানির ঝামেলা। গরু চুরির মতো অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধেও যেখানে-সেখানে ‘বিচার’ বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা দেয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয় মৃত্যুদণ্ড। অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য, পাড়া-প্রতিবেশী এবং অন্যান্য গ্রামের অধিবাসীদের আবার সেই মৃত্যুদণ্ড দেখতে বাধ্য করা হয়। কখনও বিচার ছাড়াই ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয় কাউকে। কয়েক দশক ধরে এভাবেই হাজার হাজার নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার কিম পরিবার। দেশটির নেতা কিম জং উনের শাসনামলেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানত স্কুল, বাজার, পাহাড় ও নদীর পাড়ের মতো জায়গাগুলোতে গুলি করে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৩২৩টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রায় চার বছরের গবেষণা শেষে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ। সেই প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এ লোকহর্ষক তথ্য। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।

কিম পরিবারের শাসন-শোষণ, অবিচার, নির্যাতন-নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। পালিয়ে আসা এমন ছয় শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে সিউলভিত্তিক ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সচরাচর অভিযোগ হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে তামার তার চুরি কিংবা গরু চুরি। তবে ধর্ষণ, হত্যা ও শারীরিক হামলার মতো মামলায়ও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আরও গুরুতর। সম্প্রতি অভ্যুত্থানের অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক জেনারেলকে পিরানহা মাছের ট্যাঙ্কে ফেলে হত্যা করেছেন কিম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একসঙ্গে ১০ জন কিংবা তার বেশি অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ সময় গ্রামের বা শহরতলির ১০০ থেকে এক হাজার মানুষকে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড দেখতে বাধ্য করা হয়। বাজার, স্কুল, পাহাড়ি এলাকা ও নদীর পাড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রতিবেদন মতে, একটি নদীর তীরে এমন অন্তত ৩৫টি মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেছে।

ছয় সেনার প্রত্যেকে তিনটি করে গুলি করে : ক্যাং চুন হাইওকের বয়স তখন ৯ অথবা ১০। চীনের সীমান্তবর্তী উত্তর কোরিয়ার একটি ছোট্ট শহরে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। প্রায় ২৩ বছর আগে একদিন বাড়ির অদূরে একটি ইটের ভাটায় বহু মানুষের ভিড় দেখে কৌতূহলবশত এগিয়ে যান তিনি। ভিড় ঠেলে আস্তে আস্তে একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে চোখের সামনে যে দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেন তাতে প্রচণ্ড আঘাত পান। ওই ঘটনা যেন সারা জীবনের জন্য তার মাথায় গেঁথে যায়। ক্যাংয়ের বয়স এখন ৩৩। ১৯৯৮ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং রাজধানী সিউলে বাস করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষক দলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেদিনের সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্যাং বলেন, ‘একজন বন্দির দিকে রাইফেল তাক করে দাঁড়িয়ে ছয় সেনা। প্রত্যেকে তিনটি করে গুলি করল। তারপর সব শেষ।’ ক্যাং বলেন, ‘আমি খুবই কৌতূহলী ছিলাম। সেদিন গিয়েছিলাম বন্দুকের গুলির খোসা কুড়াতে। কিন্তু যা দেখলাম তাতে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। আমি তখন খুবই ছোট। তারপরও সেই দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে।’ উত্তর কোরিয়ার সরকারের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ’।

সিআইএ’র এজেন্ট ছিলেন কিম জং উনের ভাই : উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যাম যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট ছিলেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। দৈনিকটি বলেছে, গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সঙ্গে কিম জং ন্যামের এক ধরনের ‘যোগাযোগ’ ছিল। তবে উত্তর কোরিয়ায় কোনো ধরনের ক্ষমতা ছিল না প্রয়াত ন্যামের। কাজেই তার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার কোনো গোপন তথ্য সিআইএ’র হাতে তুলে দেয়া সম্ভব ছিল না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×