বাঙালি খেদানোর চেষ্টা হলে জীবন দিয়ে দেব : মমতা

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে বাঙালি খেদানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাঙালি তাড়ানোর চেষ্টা হলে জীবন দিয়ে হলেও রুখে দেবেন বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কলকাতার হেয়ার স্কুল চত্বরে বিদ্যাসাগরের নতুন আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের সময় এসব কথা বলেন মমতা। বিদ্বজ্জন পরিবৃত হয়ে ওই সভায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বাংলাকে অপমান করা হলে বা রাজ্য থেকে বাঙালি খেদানোর চেষ্টা হলে, জীবন দিয়ে রুখে দেব। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘তাতে আমি বাঁচি মরি, কিছু যায় আসে না। নিজের প্রতি আমার কোনো দয়ামায়া নেই। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতিতে কোনো আঘাত বরদাস্ত করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না। গুজরাটকে আমি ভালোবাসি। কিন্তু গুজরাট আর বাংলা এক নয়!’ খবর এনডিটিভির।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট গ্রহণের আগে কলকাতায় রোডশো করেছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তার রোডশো চলাকালে ধুন্ধুমার হয়েছিল বিদ্যাসাগর কলেজে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি মূর্তিও ভাঙা হয়েছিল ওই সংঘর্ষে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ওই ঘটনাকে বাংলার সংস্কৃতি ও চিন্তার ওপর আঘাত বলে তারপর থেকেই জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সঙ্গে তিনি এও বলতে শুরু করেছিলেন, বাংলার বাইরে থেকে রোডশোর জন্য লোক এনেছিল বিজেপি। তারাই ভেঙেছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি।

ওই ঘটনার পর শেষ দফায় যে ৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল, তার সবক’টিতেই জিতেছে তৃণমূল। তাতে শাসক দলের শীর্ষ স্তরে এ ধারণা এখন বদ্ধমূল হয়েছে যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙারই খেসারত দিতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। ফলে এখন বাংলা ও বাঙালি লাইন আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের সেই রাজনৈতিক কৌশল এদিন পুরোদস্তুর ধরা পড়ে হেয়ার স্কুলে অনুষ্ঠানের ছবিতে। সরকারি অনুষ্ঠান হলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা ছিল এদিন ষোলো আনা রাজনৈতিক। কখনও তিনি বাংলার রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার কথা বলেন, কখনও রাজ্যপালের সমালোচনা করেন। কখনও আবার গেরুয়া শিবিরকে হুশিয়ার করে বলেন, ‘বাংলা ছেলের হাতের মোয়া নয়। এখানে যা ইচ্ছে তাই করা যায় না। বাংলাকে ভুলিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে।’

সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তৃতায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাঙালি নই? আমরা হিন্দু নই? কিছু বললেই বলছে মুসলমান তোষণ করি। এই যে মঞ্চে আবুল বাশার বসে আছেন। তাকে বলব আপনি চলে যান? আমি থাকি আর না থাকি ওই কাজ আমাকে দিয়ে করাতে পারবে না।’ প্রাদেশিকতা বাদের রাজনীতি এ দেশে নতুন নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×