ইউরোপকে দশ দিনের আলটিমেটাম ইরানের

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বহুজাতিক পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে ইউরোপকে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। বলেছে, চুক্তি বাঁচাতে ইউরোপের হাতে অল্প কয়েকদিন সময় রয়েছে। এর মধ্যেই চুক্তির সবগুলো পক্ষকে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে চলতি মাসের ২৭ জুন থেকে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে তেহরান। ঝুঁকবে পরমাণু অস্ত্রের দিকে। সোমবার ইরানে ফ্রান্সের নতুন রাষ্ট্রদূত ফিলিপ থিবকে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ হামালবান্দি বলেন, ‘আজ থেকে সময় গণনা শুরু হয়েছে। আর মাত্র ১০ দিন সময় আছে। এরপর নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু হবে।’ প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর এএফপির। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্য ছয় পরাশক্তি দেশের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিটি স্বাক্ষর করে তেহরান। স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বেঁধে দেয়া হয়। চুক্তিতে বলা হয়, ইরান ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়াম আহরণ করতে পারবে এবং ৩০০ কেজি ইউরেনিয়ামের বেশি হবে না। এছাড়া ভারি পানির উৎপাদন ও এর রফতানিও নিষিদ্ধ করা হয়। চুক্তির আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। চুক্তি মতে, বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে আগে থেকে বহাল সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। চুক্তির পর সব শর্ত মেনে চললেও গত বছর চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে আগের সব নিষেধাজ্ঞা বহাল করে এবং নতুন আরও অনেক নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানকে চুক্তি রক্ষার আশ্বাস দিয়ে এলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের বাণিজ্য চালু রাখতে একটি বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করলেও এটাকে ‘স্রেফ কৌতুক’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপের প্রায় এক বছর পর চলতি বছরের ৮ মে প্রেসিডেন্ট রুহানি ইউরোপকে হুশিয়ারি ও ৬০ দিনের আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, ইরান আর চুক্তি মেনে চলবে না। ফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ও ভারি পানির উৎপাদন শুরু করবে।’ সোমবার ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে সেই হুশিয়ারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘গত মাসে দেয়া আলটিমেটামের উদ্দেশ্য ছিল পরমাণু চুক্তিটি বাঁচাতে, ধ্বংস করতে নয়।’ রুহানি আরও বলেন, ‘এখন ক্রান্তিকাল চলছে। ফ্রান্স চাইলে অন্য পক্ষগুলোকে নিয়ে এখনও কাজ করতে পারে এবং চুক্তিটি বাঁচাতে ঐতিহাসকি ভূমিকা রাখতে পারে।’ এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে আগের দিনই ট্যাঙ্কার হামলার জন্য তেহরানকে স্থায়ী সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×