কারাগারে মরল মিসরের এক বছরের গণতন্ত্র

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টানা ৬৬ বছর পর গণতন্ত্রের প্রথম আলোকোচ্ছটা পড়েছিল মিসরের পিরামিডে। প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির চোখে গণতন্ত্রের প্রথম সকাল দেখেছিল মিসর। কিন্তু আবার সেই কালোমেঘ। সেনাশাসনের বুট-বুলেট-রাইফেলে গণতন্ত্রের শেষ আশাতেও নেমে এলো হতাশা। মাত্র এক বছরেই নিভে গেল শত বছরের তেল-সলতেয় জ্বেলে রাখা মিসরের মুক্তির দীপ। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ছিনিয়ে আনা গণতন্ত্র তার শেষ নিঃশ্বাস ফেলল কারাগারে। বিচার চলাকালে সোমবার আদালতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মিসর গণতন্ত্রের শেষ দিশারী মুরসি। মঙ্গলবার রাজধানী কায়রোতে সমাহিত করা হয়েছে তাকে। ২০১২ সালে নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় তাকে অবৈধভাবে ক্ষমতাচ্যুত করেন তারই নিয়োগ দেয়া সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। ২০১১ সালে মুরসির পূর্বসূরি স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর থেকে মিসরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হল-

গণঅভ্যুত্থান : গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন তিউনিশিয়ার স্বৈরশাসক জয়নুল আবেদিন বেন আলি। দেখাদেখি দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি কায়রো ও দেশের অন্যান্য প্রধান শহরে বিক্ষোভে নামেন কয়েক হাজার মিসরীয়। কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের গুলিতে ৮৫০ জন নিহত হয়। কায়রোর তাহরির স্কয়ারে টানা কয়েক দিনের উত্তাল বিক্ষোভের পর ১১ ফেব্রুয়ারি মোবারকের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমান ঘোষণা দেন, সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করে পদত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট।

মুসলিম ব্রাদারহুডের জয় ও সরকার গঠন : ২০১১-এর নভেম্বর থেকে ২০১২-এর জানুয়ারি পর্যন্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে বেশির ভাগ আসন দখলে নেয় ইসলামী দলগুলো। একই বছরের ৩০ জুন ৫১.৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে মিসরের সর্বপ্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুরসি। সরকার গঠনের পর সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হুসেইন তানতাবিকে সরিয়ে সিসিকে নিয়োগ দেন তিনি।

মুরসির ক্ষমতাচ্যুতি : ২০১৩ সালের জুলাইতে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসির নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী। বন্দি মুরসি অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে সমর্থকদের প্রতি প্রতিরোধের ডাক দেন। ফের উত্তাল হয়ে ওঠে তাহরির স্কয়ার। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ১৪ আগস্ট গুলি চালায় পুলিশ। আবার নিহত ৭০০ জন। ডিসেম্বরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে সিসির সরকার।

সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত : ২০১৪ সালের মে মাসে ৯৬.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সিসি। ক্ষমতা পোক্ত করতে এর আগেই সংবিধান সংশোধন করেন তিনি। ২০১৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বেশির ভাগ আসন পায় সিসি সমর্থকরা। ২০১৮-এর মার্চে স্পষ্টত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে ৯৭.০৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

বিরোধীদের ওপর নিপীড়ন : ক্ষমতায় এসেই বিরোধীদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালান সিসি। গণআদালতে হাজার হাজার ব্রাদারহুড সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ছাড় পায়নি ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীরাও। মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিয়ে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বৈরশাসক সিসিকে সমর্থন : অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, বিরোধীদের ঢালাও নিপীড়ন, ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ সত্ত্বেও সিসিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, রাশিয়া ও সৌদি আরব। ২০১৫ সালে কায়রো সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১৬ সালে মিসর সফরে যান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। ২০১৭ সালে ওয়াশিংটন সফরে সিসিকে প্রশংসায় ভাসান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×