গডফাদার ফর্মুলায় সরকার চালান মোদি

  জামির হোসেন ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লোকসভার নির্বাচনকালে পাঞ্জাবের এক নির্বাচনী র‌্যালিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, ‘হে ভগবান! মোদি মডেলের হাত থেকে দেশকে বাঁচাও।’ প্রায় একই সময় আরেক বিরোধী নেত্রী উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও দলিতদের চ্যাম্পিয়ন খ্যাত মায়াবতী বলেন, ‘এবার গুজরাট মডেল’ চূড়ান্ত ব্যর্থ হবে, হেরে নতুন ইতিহাস গড়বেন মোদি।’ মোদি মডেল আর গুজরাট মডেল বলতে মূলত তারা বুঝিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে। যার প্রধান বৈশিষ্ট্য কতিপয় বিশ্বস্ত সহচর নিয়ে দলের ওপর প্রভাব বিস্তার, সেই সঙ্গে পুরো সরকার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। বিশ্লেষকদের মতে, গুজরাট আমল থেকেই অনেকটা গডফাদার ফর্মুলায় সরকার পরিচালনা করে আসছেন মোদি। নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকবারই জনগণের সামনে তা তুলে ধরেছিলেন বিরোধী নেতানেত্রীরা।

শুধু সোনিয়া আর মায়াবতীই নয়। বলতে গেলে বিরোধীদের সবাই ‘মোদি মডেল’ বা ‘গুজরাট মডেল’র বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিলেন, কিন্তু আটকাতে পারেননি। লোকসভার মধ্য দিয়ে বহাল তবিয়তেই হাজির মোদি মডেল। লোকসভায় বড় ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে ফের সরকার গড়েছেন মোদি। কিন্তু নতুন এ সরকার ব্যবস্থা পুরনো সেই ‘গুজরাট মডেলে’র সরকার বৈ ব্যতিক্রম কিছু নয়। কট্টর জাতীয়তাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিই যার চালিকাশক্তি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক সময় যেমন একহাতে গুজরাট শাসন করেছেন বর্তমান সরকারেও সেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি। মূলত ২০০১-০২ সালেই গুজরাট মডেলের ভিত গড়ে ওঠে। এরপর ২০১২ পর্যন্ত ক্ষমতার দুই মেয়াদে তা পোক্ত হয়। ২০১৪ সালের লোকসভায় প্রথমবারের মতো ব্যাপক জয়ের মাধ্যমে সেই মডেলই স্বাভাবিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় সরকারে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে সেই মডেলই আরও শক্তিশালীরূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন মোদি।

মোদির গুজরাট মডেলের সরকারের মূল্য বৈশিষ্ট্য ছিল কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা বা একচেটিয়া কর্তৃত্ব। মোদির বর্তমান সরকারের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই সেটা খুবই প্রবলভাবে ধরা পড়ে। এর আরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, গডফাদারের মতোই মুষ্টিমেয় বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে দলের পাশাপাশি সরকার ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছেন। দ্বিতীয়ত, বাছাই করা কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথা আমলার মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা। তৃতীয়ত, কয়েকটি বদ্ধমূল ধারণা দিয়ে সরকার পরিচালনা যা হাতেগোনা কয়েকজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। চতুর্থত, কট্টর আদর্শবাদ এবং পঞ্চমত, সাম, দাম, ভেদ ও দ্বন্দ্ব- এই প্রাচীন নীতিতে সব বিরোধীদের দমিয়ে রাখা।

উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের সবগুলোই মোদি সরকারে বিরাজমান। নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরই মন্ত্রিসভার প্রধান প্রধান দায়িত্ব বসিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিজের দীর্ঘদিনের সহযোগী অমিত শাহকে মনোনীত করেছেন মোদি। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভার অর্পণ করেছেন সাবেক সচিব এস জয়শঙ্করের ওপর। জয়শঙ্করের মতো আরও দুই আমলা নৃপেন্দ্র মিশ্র ও পিকে মিশ্রকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন তিনি। এদের মাধ্যমেই সরকারের সব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×