ধর্মকর্ম থেকে মুখ ফেরাচ্ছে আরবরা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগের মতো আর ধর্মে বিশ্বাস নেই আরবদের। ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজও তোয়াক্কা করে না। ধর্মীয় পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণে জেঁকে বসেছে অনীহা। এক পরিবারের এক প্রজন্মের সঙ্গে অন্য প্রজন্মের এখন আকাশ-পাতাল তফাত। সবচেয়ে বেশি ফারাক সৃষ্টি হয়েছে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের। পশ্চিমের ‘আকাশ সংস্কৃতি’র টানে দিনে দিনে মূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আরব দেশগুলোর উঠতি প্রজন্ম। বোরকা-জুব্বা ফেলে ঝুঁকছে টিশার্ট-জিন্সে। নামাজ-কালাম ছেড়ে ছুটছে মদ-ফুর্তিতে। আরব বিশ্বের ১১টি দেশের ওপর চালানো বিবিসির সাম্প্রতিক এ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে জরিপটি চালিয়েছে বিবিসি নিউজ অ্যারাবিক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা নেটওয়ার্ক আরব ব্যারোমিটার। একে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় চালানো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণা বলে অভিহিত করেছে বিবিসি। দেশগুলো হচ্ছে- আলজেরিয়া, মিসর, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, মরক্কো, ফিলিস্তিন, সুদান, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেন।

প্রতিবেদন মতে, কয়েকটি প্রাচীন ধর্মের আদিভূমি এ অঞ্চলে বর্তমানে ধর্মে বিশ্বাস নেই বা ধর্মকর্ম করে না এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১-১২ সালে চালানো অপর এক জরিপে যেখানে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ নিজেদেরকে ‘ধর্মহীন’ বলেছিল। মাত্র পাঁচ বছর সেখানে ১৮ শতাংশই বলছে, তারা এখন আর ধর্ম মানে না। জরিপ মতে, ইয়েমেন ও মরক্কো বাদে বাকি ৯টি দেশে ধর্মীয় নেতাদের ওপরও মানুষের বিশ্বাস কমে গেছে।

জরিপে নারী অধিকার, অভিবাসন, নিরাপত্তা ও যৌনতা সম্পর্কেও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন উত্তরদাতারা। নারী অধিকার সম্পর্কিত এক প্রশ্নে স্বামীকে তালাকের অধিকার সমর্থন করেছেন বেশিরভাগ উত্তরদাতাই। কিন্তু তারা মনে করেন, পরিবারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর কর্তৃত্বই বেশি থাকা উচিত। সিংহভাগ উত্তরদাতাই বলেছেন, নারীদের রাষ্ট্রপ্রধান করা উচিত। তবে রাজনীতিক হিসেবে পুরুষদেরকে সেরা বলে মনে করেন অনেকেই। সমকামিতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন উত্তরদাতারা। প্রতিবেদন মতে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সমকামকে ‘গ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। লেবাননে এই সংখ্যা ৬ শতাংশ। ইরাক, জর্ডান ও তিউনিসিয়ায় তা ৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ আলজেরীয় সমকামিতাকে ‘গ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করেন।

নিজের দেশের সরকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জরিপের উত্তরদাতারা। আলজেরিয়া, ইরাক, জর্ডান, লিবিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের উত্তরদাতারা মনে করেন, তারা স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। আলজেরিয়ায় ১০ জনের ছয়জন, সুদানের ১০ জনের চারজন উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, সর্বশেষ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। আরব ব্যারোমিটারের পরিচালক মাইকেল রবিনস বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- জরিপ পরিচালিত দেশগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মনে করে, সরকার নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আস্থা বিবেচনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের চেয়ে অর্থনৈতিক ইস্যু আগে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×