পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আলাদা খাবার ঘরের নির্দেশ মমতার
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আলাদা খাবার ঘরের নির্দেশ মমতার

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান অধ্যুষিত স্কুলগুলোতে পৃথক খাবার ঘর তৈরির নির্দেশ দিয়ে বিজেপির তোপের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার। রাজ্য সরকারের এ উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিছুসংখ্যক স্কুলে আলাদা নিয়ম কার্যকর করায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘পৃথকীকরণের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

গত মঙ্গলবার কুচবিহারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংখ্যালঘু বিভাগ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার পরিচালিত যেসব স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী রয়েছে সেসব স্কুলের তালিকা পাঠাতে জেলা পরিদর্শকদের নির্দেশ দেয়া হয়। এসব স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ (মধ্যাহ্নভোজ) পরিবেশন করতে আলাদা একটি খাবার ঘর নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

শুক্রবার টুইট বার্তায় রাজ্য সরকারের এ নির্দেশনার সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বৈষম্য কেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? নাকি গভীর ষড়যন্ত্র?’ পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভোট ব্যাংক সুরক্ষার স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হিন্দু শিক্ষার্থীরা কী অপরাধ করেছে যে তারা খাবার ঘরের সুবিধা পাবে না?

দিলীপ ঘোষের দাবি নস্যাৎ করে কোচবিহার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিভাগের জেলাপ্রধান বলেন, সরকারি ঘোষণার অপপ্রচারের চেষ্টা করেছে বিরোধী দল। জেলার প্রত্যেক স্কুলে বাধ্যতামূলক ডাইনিং রুমের ব্যবস্থা শুধুই মুসলিমদের জন্য নয়, সব স্কুলপড়ুয়াদের জন্যই। তিনি আরও বলেন, কোচবিহার বরাবরই মুসলিম অধ্যুষিত জেলা। যেসব স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম পড়ুয়া রয়েছে সেখানে আলাদা খাবার ঘর তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। জেলাপ্রধানের এ কথায় সায় দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুবিষয়ক মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরও। তাদের কথায়, এ প্রকল্পের আওতায় চারপাশ ঢাকা আলাদা রান্নাঘর এবং খাওয়ার ঘর তৈরি করা হবে। যেখানে পরিচ্ছন্নভাবে রান্না হবে।

পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার সাহায্যে ন্যূনতম ৪ হাজার ৬৪৭টি প্রাথমিক এবং ১ হাজার ৫২৪টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার ঘর তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

যদিও এ অর্থে সব স্কুলে খাবার ঘর তৈরি সম্ভব নয়। তাই মাদ্রাসার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও চাঁদা তুলছেন। সরকারি তহবিলে দান করা হবে সেই অর্থ। যাতে সেই সব স্কুলগুলোও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আলাদা খাবার ঘরের নির্দেশ মমতার

 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান অধ্যুষিত স্কুলগুলোতে পৃথক খাবার ঘর তৈরির নির্দেশ দিয়ে বিজেপির তোপের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার। রাজ্য সরকারের এ উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিছুসংখ্যক স্কুলে আলাদা নিয়ম কার্যকর করায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘পৃথকীকরণের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

গত মঙ্গলবার কুচবিহারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংখ্যালঘু বিভাগ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার পরিচালিত যেসব স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী রয়েছে সেসব স্কুলের তালিকা পাঠাতে জেলা পরিদর্শকদের নির্দেশ দেয়া হয়। এসব স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ (মধ্যাহ্নভোজ) পরিবেশন করতে আলাদা একটি খাবার ঘর নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

শুক্রবার টুইট বার্তায় রাজ্য সরকারের এ নির্দেশনার সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বৈষম্য কেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? নাকি গভীর ষড়যন্ত্র?’ পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভোট ব্যাংক সুরক্ষার স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হিন্দু শিক্ষার্থীরা কী অপরাধ করেছে যে তারা খাবার ঘরের সুবিধা পাবে না?

দিলীপ ঘোষের দাবি নস্যাৎ করে কোচবিহার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিভাগের জেলাপ্রধান বলেন, সরকারি ঘোষণার অপপ্রচারের চেষ্টা করেছে বিরোধী দল। জেলার প্রত্যেক স্কুলে বাধ্যতামূলক ডাইনিং রুমের ব্যবস্থা শুধুই মুসলিমদের জন্য নয়, সব স্কুলপড়ুয়াদের জন্যই। তিনি আরও বলেন, কোচবিহার বরাবরই মুসলিম অধ্যুষিত জেলা। যেসব স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম পড়ুয়া রয়েছে সেখানে আলাদা খাবার ঘর তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। জেলাপ্রধানের এ কথায় সায় দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুবিষয়ক মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরও। তাদের কথায়, এ প্রকল্পের আওতায় চারপাশ ঢাকা আলাদা রান্নাঘর এবং খাওয়ার ঘর তৈরি করা হবে। যেখানে পরিচ্ছন্নভাবে রান্না হবে।

পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার সাহায্যে ন্যূনতম ৪ হাজার ৬৪৭টি প্রাথমিক এবং ১ হাজার ৫২৪টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার ঘর তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

যদিও এ অর্থে সব স্কুলে খাবার ঘর তৈরি সম্ভব নয়। তাই মাদ্রাসার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও চাঁদা তুলছেন। সরকারি তহবিলে দান করা হবে সেই অর্থ। যাতে সেই সব স্কুলগুলোও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন