আফগান সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যৌন হয়রানি

থানা-পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানেও নির্যাতনের শিকার

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে যৌন হয়রানি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এমপি-মন্ত্রীদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী কর্মীরা। অনৈতিক প্রস্তাব থেকে শুরু করে অনাকাক্সিক্ষত স্পর্শ, ধর্ষণ, হুমকি-ধামকির মধ্য দিয়ে যেতে হয় নারীদের। থানা-পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। প্রশাসনজুড়েই ‘হয়রানির সংস্কৃতি’ চালু রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে অভিযোগকারীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও বিবিসির কাছে ছয় নারী তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে যেসব নারীর কথা বলা হয়েছে তারা কেউ সরকারি চাকরিজীবী আবার কেউ চাকরিপ্রার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানী কাবুলের এক নারী বলেন, প্রভাবশালী এক ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি সরকারি চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন। ওই মন্ত্রী নিয়মিতই তাকে হয়রানি করতেন। একদিন অফিসের ভেতরে তাকে শাররীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টাও করেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি সরাসরি আমাকে প্রস্তাব দেন। আমি তাকে বলি- আমি যোগ্য ও অভিজ্ঞ। আপনি আমাকে এ ধরনের কিছু বলবেন আমি কখনই ভাবিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেই তিনি আমার হাত ধরে টেনে তার কার্যালয়ের পেছনে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওই কক্ষে ফেলেন এবং বলেন, ‘মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। চিন্তা করো না, আমার সঙ্গে এসো’। ওই নারী বলেন, ‘আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে বলি- যথেষ্ট হয়েছে। আমাকে চিৎকার করাবেন না। ওই শেষ আমি তাকে দেখেছি। আমি খুবই ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছিলাম।’ এ ঘটনার পর আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি থেকে পদত্যাগ করি। আমি সরকারকে বিশ্বাস করি না। আপনি যদি আদালত বা পুলিশের কাছে যান, তাহলে দেখবেন তারা কী পরিমাণ দুর্নীতিগ্রস্ত। যাওয়ার জন্য এবং অভিযোগ করার জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা পাবেন না আপনি। যখনই আপনি কথা বলবেন, সবাই তখন অভিযোগকারী নারীকেই দোষ দেবে।’ ওই মন্ত্রী আরও দুই নারীকে ধর্ষণ করেছে বলেও নির্যাতিতদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন এ নারী।

অন্য এক নারী সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির এক উপদেষ্টার দ্বারা হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানান। নারীদের জন্য ভয়াবহ দেশের তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান ধারাবাহিকভাবেই নিচের দিকে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেশটিতে নারীদের ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা এবং তাদেরকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করার বিস্তৃত বিবরণ আছে। অনেক ক্ষেত্রে উল্টো অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধেই অপরাধের দায়ভার বর্তায়। এ ধরনের পরিবেশে প্রভাবশালী পুরুষদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা বেশ কঠিন, বলছেন অভিযোগকারী নারীরা। ঘানির সাবেক এক উপদেষ্টা জেনারেল হাবিবুল্লাহ আহমদজাই মে মাসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ‘পতিতাবৃত্তিকে উৎসাহিত’ করার অভিযোগ আনার পর সরকারের উপর মহলে যৌন নির্যাতনের এ ঘটনাগুলো একটু একটু করে প্রকাশ্যে আসা শুরু করে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×