সাগরে ব্রিটিশ ট্যাংকারকে ইরানি বোটের ধাওয়া

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

পারস্য উপসাগরে কয়েকটি ইরানি বোট একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে ‘ধাওয়া’ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বুধবার পারস্য উপসাগরে ইরানি জলসীমার কাছে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। ট্যাংকার আটকানোর চেষ্টার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। এদিকে পরমাণু চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) জরুরি বৈঠকে এ হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ‘হরমুজ প্রণালীর উত্তর দিকের প্রবেশ মুখে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর পাঁচটি বোট তেলবাহী জাহাজ ব্রিটিশ হ্যারিটেজকে থামতে বলে। কিন্তু একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ তাদের সতর্ক করলে তারা সরে পড়ে।’ আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘সেখানে থাকা রাজকীয় নৌবাহিনীর এইচএমএস মন্ট্রোজ (যুদ্ধজাহাজ) তাদের বন্দুকগুলো ওই বোটগুলোর দিকে তাক করে রেডিও মারফত তাদের সতর্ক করে। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। এটি হয়রানি এবং ওই প্রণালীতে বিঘœ সৃষ্টির চেষ্টা।’

রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজের তাড়া খেয়ে ইরানের বোটগুলো পিছু হটেছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। ট্যাংকার ধাওয়া করার অভিযোগ অস্বীকার করে ইরানি বিপ্লবী গার্ড জানায়, তাদের নৌকাগুলো রুটিনমাফিক টহল দিচ্ছিল।

গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার উপকূলে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন ইরানি সুপার-ট্যাংকার গ্রেস ১ জব্দ করার প্রায় এক সপ্তাহ পর এ ঘটনাটি ঘটল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাংকারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে সেটি আটক করে তারা। এই ট্যাংকার আটকের ঘটনায় ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার সকালে হুশিয়ার করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরির চেষ্টায় তাদের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের চুক্তিতে বেঁধে দেয়া পারমাণবিক তৎপরতার সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে ইরান। মে ও জুনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় বেশ কয়েকটি তেল ট্যাংকারে হামলা হয়।