নির্বাচনের আগে শ্বেতাঙ্গবাদ চাঙ্গা করছেন ট্রাম্প

পাল্টা জবাব নারী কংগ্রেসম্যানদের

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনের আগে শ্বেতাঙ্গবাদ চাঙ্গা করছেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের চার নারী কংগ্রেসম্যান।

ক্যাপিটল হিলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে একসঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়ান নিউইয়র্কের এমপি আলেকজান্ড্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগানের রাশিদা তালিব।

ট্রাম্পের মতো বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘বড় স্কোয়াড’ বর্ণনা করে তারা বলেন, জাতীয়তাবাদের ঝড় তুলে শ্বেতাঙ্গবাদকে চাঙ্গা করতে চাইছেন ট্রাম্প। তিনি যা করছেন তা শ্বেতাঙ্গবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন বৈ আর কিছু নয়। তারা আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও অভিবাসনের যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্ত করা ছাড়া আর কোনো কিছুই তার পছন্দ নয়। মার্কিন জনগণের মুখের সামনে এটা একটা ‘টোপ’।

ট্রাম্পের এই টোপ না গিলতে মার্কিনিদের হুশিয়ার করেন তারা। কংগ্রেস ওম্যানদের সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই ওই চার নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আক্রমণের তেজ আরও বাড়িয়ে দেন ট্রাম্প।

নিন্দা-সমালোচনা থোড়াইকেয়ার করে হোয়াইট হাউসের ব্যবসায়ী সম্মেলনের এক বক্তৃতায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। বলেন, যারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক’ তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াই উচিত। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নজর রেখেই জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবাদের সুর চড়াচ্ছেন ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে রোববার ট্রাম্প বলেন, গোটা বিশ্বের নিরিখে যেখানে সরকার নিকৃষ্টতম, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ- সেসব দেশ থেকে আসা ‘প্রগতিশীল’ নারীরা আমেরিকার মতো সেরা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রের নাগরিকদের বোঝাতে এসেছেন, কিভাবে সরকার চালাতে হবে।

তারা যেখান থেকে এসেছেন, সেখানেই ফিরে যাচ্ছেন না কেন। অস্থির, অপরাধপ্রবণ সেই জায়গাগুলো বরং ঠিকঠাক করে আমাদের দেখাক না কিভাবে কাজটা করতে হবে। নতুন বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার এই চার নারী এমপি ট্রাম্পের পুরনো নিশানা। এদের তিনজনের জন্ম বেড়ে ওঠা আমেরিকাতেই। শুধু ইলহান শৈশবে আমেরিকায় এসেছিলেন সোমালিয়া থেকে।

চার কংগ্রেস ওম্যানের প্রতি ট্রাম্পের ‘আক্রমণ’ নিয়ে অনেক রিপাবলিকান চুপ থাকলেও বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থানও নিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের একমাত্র আফ্রিকান-আমেরিকান রিপাবলিকান প্রতিনিধি উইল হার্ড ট্রাম্পের টুইটকে ‘বর্ণবাদী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

উচ্চকক্ষ সিনেটের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকানও টুইটারে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ‘জাতিগতভাবে আক্রমণাত্মক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নারীদের বিরুদ্ধে এমন অপ্রীতিকর মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে এর নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব দিয়ে আলেকজান্ড্রিয়া বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট, আমি যে দেশের এবং যে দেশের জন্য আমরা সবাই শপথ নিয়েছি, তার নাম আমেরিকা। কিন্তু আপনি আমাদের সীমান্তকে অমানবিক শিবির বানিয়ে ধ্বংস করেছেন, যাতে শুধু আপনার এবং সেনাবাহিনীর লাভ হয়। দুর্নীতির কথাটা এক্কেবারে ঠিক বলেছেন, আপনার পায়ের কাছেই সেটা হয়ে চলেছে।’

আলেকজান্ড্রিয়ার সংযোজন, ‘আপনি রেগে গিয়েছেন। কারণ আপনি সেই আমেরিকার কথা ভাবতেই পারেন না যে আমেরিকা আমাদের গ্রহণ করেছে। যুদ্ধবাজ মনোভাব থেকে একটা ভয়ানক আমেরিকার ওপরে নির্ভর করেন আপনি।

যে আমেরিকা আমাদের জিতিয়েছে, তাকে মানতে চান না। আমরা আপনাকে ভয় পাই না, আপনি মানতে পারেন না সেটাও।’ রশিদা ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, বিশৃঙ্খল ও সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রেসিডেন্টের উদাহরণ জানতে চান।

তিনি নিজেই তা-ই। ওনার ভয়ঙ্কর মতাদর্শ সেই সংকট তৈরি করে। তাকে ইমপিচ করা উচিত। ইলহান বলেছেন, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদে ইন্ধন জোগাচ্ছেন তিনি। আমরা কংগ্রেসে এসেছি এবং আপনার

ঘৃণ্য-রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি বলে আপনার এত রাগ।

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×