ট্রাম্প বর্ণবাদী, তকমা কংগ্রেসের

২৪০-১৮৭ ভোটে নিন্দা প্রস্তাব পাস

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্প বর্ণবাদী, তকমা কংগ্রেসের
ছবি: এএফপি

কংগ্রেসের চার নারী ডেমোক্রেটিক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের যারা তার পক্ষ নিয়েছিলেন, প্রতীকীভাবে তাদের লজ্জা দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদে নিন্দা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে পক্ষে ২৪০ ও বিপক্ষে ১৮৭ ভোট পড়ে। এ প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে কার্যত ট্রাম্পকে বর্ণবাদী তকমা দিল কংগ্রেস। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ওই চার সংখ্যালঘু নারী প্রতিনিধির নাম উল্লেখ না করে রোববারের টুইটে ট্রাম্প তাদের দেশগুলোকে ‘ব্যর্থ ও অপরাধপ্রবণ’ বলে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি তাদের সেখানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিউইয়র্কের আলেকজান্ড্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগানের রাশিদা তালিব- সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের মধ্যে তিনজনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ইলহান সোমালিয়া থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।

কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সহজেই নিন্দা প্রস্তাবটি পাস হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘প্রতিনিধি পরিষদ জোরালোভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যের নিন্দা করছে। তার এসব মন্তব্য নতুন আমেরিকান ও ভিন্ন বর্ণের লোকদের প্রতি ভয় ও ঘৃণাকে বৈধতা দিয়ে তা বাড়িয়ে তুলবে।’

ভোটাভুটিতে চার রিপাবলিকান দলীয় সদস্য ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। প্রতিক্রিয়া জানাতে রাতে এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘চার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের বিষয়ে আমি যে বিবৃতি দিয়েছি, তা নিয়ে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান পার্টি যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিল, তা দেখে গর্ববোধ করছি।’

‘দ্য স্কোয়াড’ হিসেবে পরিচিত ওই নারীরা ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যায়।

এ নিয়ন্ত্রণ বলে ট্রাম্পের আইনি এজেন্ডা ঠেকিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতেই ট্রাম্প উদ্দেশ্যমূলকভাবে বর্ণবাদ আক্রমণ করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ এর আগের সপ্তাহে প্রগতিশীল এ চার নারী প্রতিনিধির সঙ্গে হাউস স্পিকার ডেমোক্রেটিক দলীয় নেত্রী ন্যান্সি পেলোসির তীব্র মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের ওই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। স্পিকার পেলোসি তার দলের ওই চার নারী প্রতিনিধির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন।

ট্রাম্পকে জার্মানির দরিদ্র গ্রামে ফেরার আহ্বান : ভিনদেশি কংগ্রেস সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করায় ট্রাম্পকে তার পৈতৃক গ্রাম জার্মানির কালস্টাটে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

কালস্টাটের মেয়র থমাস জায়োরেক বলেন, ‘যদি ট্রাম্প এখানে আসেন, তবে তিনি অভিবাসী, নাগরিকত্ব বিষয়ে একটি পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফিরবেন।’ কালস্টাটের এক নারী সংঘের প্রধান বিয়াট্রিক্স রিয়েডে বলেন, ‘প্রত্যেকের আদি বাসস্থান আছে এবং সবাই উন্নত জীবন খোঁজে অন্যত্র পাড়ি দেন। আমি আশা করি, মার্কিনিরা আগামী নির্বাচনে এমন কাউকে নির্বাচিত করবেন, যিনি ভেবেচিন্তে কথা বলবেন।’

ট্রাম্পের দাদা ফ্রিডেরিক ট্রাম্প ১৮৮৫ সালে ১৬ বছর বয়সে উন্নত জীবনের আশায় জন্মস্থান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×