হরমুজে আরও নৌসেনা চায় ব্রিটেন

প্রত্যেকটি জাহাজ টহল দিয়ে পার করা সম্ভব নয় * রয়্যাল নৌবাহিনী দুর্বল, রণতরীগুলো খুবই ছোট * ইরানের সঙ্গে টক্করে যেতে অর্থের প্রয়োজন * নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পারস্য উপসাগরে ইরানের সঙ্গে টক্কর দিতে যুক্তরাজ্যের আরও নৌসেনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস এলউড। র?য়্যাল নৌ বাহিনীর দুর্বলতা ও অর্থ সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি ব্রিটিশ ট্যাংকার আটকের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দিয়েছেন এলউড। আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাকে ইরান সংকট নিয়ে ব্রিফিং করবেন শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা। সেখানেই সৈন্য বাড়ানো ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরবেন তারা। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও ডেইলি মেইলের।

শুক্রবার ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার জব্দ করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। ইরানের অভিযোগ, দ্য স্টেনা ইমপেরো আন্তর্জাতিক সমুদ্রযাত্রা আইন লঙ্ঘন করেছিল। ট্যাংকারটি তিনটি নিয়ম ভেঙেছিল। ট্যাংকারটি জিপিএস বন্ধ রেখেছিল। প্রবেশমুখের দিকে না গিয়ে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাচ্ছিল। সতর্কবার্তা অমান্য করেছিল। ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ট্যাংকারটি অবিলম্বে ছেড়ে না দিলে তেহরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে এলউড বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এছাড়া ইরানকে রুখতে আরও কয়েকটি বিকল্পও চিন্তা করা হচ্ছে।’ সমুদ্রসীমায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আরও সেনা ও অর্থের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। এলউড বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সামরিক খাতে, বিশেষ করে রয়্যাল নৌ বাহিনীতে অধিক বাজেট বরাদ্দের বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনী খুবই দুর্বল। প্রত্যেকটি জাহাজ টহল দিয়ে পার করা অসম্ভব। তাছাড়া আমাদের রণতরীগুলোও খুবই ছোট। ইরানের সঙ্গে টক্কর দিতে আমাদের আরও অর্থের প্রয়োজন। ভবিষ্যতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ২৪ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের মধ্যে যে কোনো একজন হচ্ছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী। কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন জনসন। ব্রেক্সিট সংকট এবং ইরান উত্তেজনা ঘাড়ে নিয়েই দায়িত্ব শুরু করতে হচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে। এখন দেখার বিষয় যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কিভাবে সামাল দেন নতুন ব্রিটিশ নেতা।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলো’ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়েদিনেজাদ রোববার এক টুইটে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের সরকারের উচিত ওই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যারা ইরান ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে জাহাজ ইস্যুর বাইরে নিয়ে গিয়ে আরও ছড়িয়ে দিতে চায়। অঞ্চলটির স্পর্শকাতর সময়ে এটি পুরোপুরি বিপজ্জনক ও জ্ঞানহীন আচরণ। তবে যাই হোক না কেন ভিন্ন পরিস্থিতির জন্যও ইরান দৃঢ় ও প্রস্তুত আছে।’

প্রতিশোধ নিতেই ব্রিটিশ ট্যাংকার আটক : প্রতিশোধ নিতেই যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাংকার ইরান আটক করেছে বলে দাবি করেছে ব্রিটেন। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরিমি হান্ট এ দাবি করেছেন। হান্ট বলেছেন, জাহাজ আটকের ব্যাপারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ‘ইটের বদলে পাটকেল অবস্থা’। পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে পাওয়ার ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি মরডন্ট হরমুজ প্রণালি থেকে স্টেনা ইমপেরো আটককে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ অ্যাখ্যা দেন। পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছে ব্রিটেন। চিঠিতে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের নৌযানটিকে আটক করার সময় সেটি ওমানের জলসীমায় ছিল এবং সব নিয়ম মেনেই প্রণালিটি পার হচ্ছিল। চিঠিতে স্টেনা ইমপেরো আটককে তেহরানের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×