বুড়ো-বুড়ির সংসারে বিদ্যুৎ বিল ১২৮ কোটি রুপি

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগের কাঠগড়ায় যোগী আদিত্যনাথের সরকার। এক দরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতিকে ১২৮ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৪ রুপির বিদ্যুৎ বিল ধরিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর। টানাটানির সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় দশা। অথচ তাদের এক মাসের ফ্যান-লাইটের খরচই এসেছে পুরো একটা শহরের বিলের সমান! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলার চামরি গ্রামে। শামিম এবং খইরু নিশা নামে ওই বৃদ্ধ দম্পতির এক চিলতে বাড়িতে রয়েছে মাত্র একটি ফ্যান এবং একটি লাইট। নিজের ঘরের নড়বড়ে খাটিয়ায় বসে বুড়ো-বুড়ির অভিযোগ, ওই বিদ্যুৎ বিল দেখে তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন প্রথমে। তারপর বিদ্যুৎ দফতরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের দরজায় ঘুরে এখনও কোনো সুরাহা পাননি। প্রশাসনের কোনো অফিসারই তাদের আবেদনে কর্ণপাত করেননি। এমনকি বিল দিতে না পারার জন্য সম্প্রতি বিদ্যুৎ দফতর থেকে এসে তাদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গিয়েছেন বিদ্যুৎকর্মীরা। এএনআই।

শামিমের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, ‘বিদ্যুৎ দফতর বোধ হয় চাইছে আমি সারা হাপুরের বিল দিয়ে দিই।’ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর টনক নড়ে বিদ্যুৎ দফতরের। সহকারী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রাম শরণ নিজেদের দফতরের ভুল স্বীকার করে বলেছেন, ‘এটা এমন কোনো ব্যাপারই নয়। সম্ভবত এটা কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই হয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি তো হয়েই থাকে। ওনারা যদি আমাদের ওই বিলটি দেন আমরা প্রযুক্তিগত ত্রুটি সংশোধন করে ওদেরকে আসল বিল দিয়ে দেব।’ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে শামিম জানান, ‘কেউ আমাদের কথা শুনছে না। এত টাকা কী করে দিই বলুন তো? শুধু আলো-পাখা ব্যবহার করি আমরা। তাতে এত বিল হয় কী করে? মনে হচ্ছে, গোটা হাপুরের বিলই পাঠিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিল না মেটালে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।’

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ দফতরে যোগাযোগ করা হলে তাদের ইঞ্জিনিয়ার রাম শরণ বলেন, ‘সম্ভবত প্রযুক্তিগত ভুল হয়েছে। এটা এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। এমন হয়েই থাকে। বিলটি হাতে পেলে, সবকিছু খতিয়ে দেখব আমরা। ভুল হয়ে থাকলে, তা সংশোধন করে নতুন বিল দেয়া হবে ওই পরিবারকে।’

এর আগে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন কনৌজের বাসিন্দা আবদুল বসিত। বাড়িতে ২ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে ২৩ কোটির বিল ধরানো হয়। আট লাখ ৬৪ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পেয়ে গত বছর মে মাসে আত্মহত্যা করেছিলেন মহারাষ্ট্রের অওরঙ্গাবাদের এক সবজি বিক্রেতা। সেই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে বিদ্যুৎ দফতরের অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্টকে সাসপেন্ড করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×