জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বিশ্লেষণ: গণতন্ত্রই পৃথিবীর বড় শত্রু

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রেক্সিটপন্থী এবং ব্রেক্সিটবিরোধী, কনজারভেটিভ এবং লেবার- এ পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক সরকার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ব্রেক্সিট ইস্যুটি এখন ব্রিটিশ নেতৃত্বের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে রয়েছে।
ছবি: এএফপি

ব্রেক্সিটপন্থী এবং ব্রেক্সিটবিরোধী, কনজারভেটিভ এবং লেবার- এ পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক সরকার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ব্রেক্সিট ইস্যুটি এখন ব্রিটিশ নেতৃত্বের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে রয়েছে।

একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তন রুখতেও দেশে দেশে সিদ্ধান্তহীনতার ব্যাপক অভাব রয়েছে। সরকার এটা চাইছে, তো জনগণ তার বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপাচ্ছে। দেশের প্রবীণ ও নবীন নাগরিকদের মধ্যেও জলবায়ু নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত।

সম্প্রতি ব্রিটেনের এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের অর্ধেকই জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় হুমকি হিসেবে মনে করেন। সেখানে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের মাত্র ২০ শতাংশ একে হুমকি হিসেবে মানে।

ফরেন পলিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গত এপ্রিলে লন্ডন সফর করেছেন তরুণ জলবায়ু কর্মী গ্রিটা থানবার্গ। তার সম্মানে ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতারা ভোজসভার আয়োজন করেন। পার্লামেন্ট ভাষণে থানবার্গ বলেন, আমি সেই সব শিশুর কথা বলতে চাই, যারা রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার এবং সেই সব ভোটারদের, যারা জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে ব্যর্থ। কোটি কোটি অনাগত শিশু, যারা পৃথিবীতে এসেই এ গ্রহের উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তাদের পক্ষ হয়ে আমি এখানে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বয়স ১৬ বছর। আমি সুইডেন থেকে এসেছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পক্ষে আমি কথা বলতে এখানে এসেছি।’ তার বক্তব্যে ছিল রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক এবং চলমান গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি ক্ষোভ। জলবায়ু সংকট হল এমন একটি ইস্যু যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা করতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

রাজনৈতিক নেতারা বৃহৎ পরিসরে পরিকল্পনা নিলেও যে গণতন্ত্রের চর্চা আমরা করি, সেই প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ছাড়া তাতে তারা রাজনৈতিক সফলতা পান না। ফলে জনগণের কথা ভেবেই পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা থেকে বাঁচতে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে।

যেমন- আমাদের খাওয়া, আমরা কোথায় বসবাস করছি এবং কিভাবে ভ্রমণ করছি- সেসব বিষয়ে পরিবর্তন দরকার। আমরা যদি আমাদের এ গ্রহকে বাঁচাতে চাই তাহলে কম মাংস খেতে হবে, বসবাসের ঘর ছোট করে সবুজায়ন বাড়াতে হবে এবং গাড়ির ব্যবহার কমাতে হবে। কিন্তু এসব পরিবর্তন তরুণদের ক্ষেত্রে যতটা কঠিন তার চেয়েও বেশি কঠিন প্রবীণদের ক্ষেত্রে। কারণ প্রবীণরা গ্রহের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব কমই চিন্তা করেন।

সমস্যা হল, বয়সের এ লড়াইয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বসে নেই। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে না পারলে পৃথিবীর জন্য বিপর্যয়কর হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ।

১৬ বছরের থানবার্ন জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়ানক ইস্যুতে ভোটের কোনো প্রয়োজন নেই বলে যুক্তি দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে কর্তৃত্ববাদী চীন সরকারই এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

একদলীয় এ দেশটি ভোটাভুটির চক্র এবং জনগণের রায় শোনার অপেক্ষায় না থেকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এক্ষেত্রে গণতন্ত্রের সংস্কারও প্রয়োজন। যেমন বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বদলে গণতন্ত্র-পূর্ববর্তী পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া।

আরেকটি বিকল্প হতে পারে স্বেচ্ছাধীন গণতন্ত্র, যা নানা শ্রেণিপেশার, নানা দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের একে-অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার এবং পক্ষপাতী প্রতিনিধিত্ব থেকে মুক্ত থাকার অনুমতি দেয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ব্রেক্সিট ইস্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×