বাল্টিমোর ‘পোকামাকড়ের শহর’: ফের কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষ ট্রাম্পের

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক উক্তি নতুন কিছু নয়। যা মুখে আসে তাই বলেন। এজন্য বিশ্বে নিন্দার মুখেও পড়েন প্রায়ই। কিন্তু এতে তার কিছুই এসে-যায় না। শনিবার আবারও নতুন করে কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করে ঘৃণার বিষ উগড়ে দেন তিনি।
ছবি: এএফপি

কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক উক্তি নতুন কিছু নয়। যা মুখে আসে তাই বলেন। এজন্য বিশ্বে নিন্দার মুখেও পড়েন প্রায়ই। কিন্তু এতে তার কিছুই এসে-যায় না। শনিবার আবারও নতুন করে কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করে ঘৃণার বিষ উগড়ে দেন তিনি।

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর শহরে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গরা সংখ্যায় বেশি। এ কারণেই শহরটি এবং এর কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ট্রাম্পের দু’চোখের বিষ। বাল্টিমোরকে তাই ‘পোকামাকড়ে ভরা জঘন্য’ শহর অভিহিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে বর্ণবাদী আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা। খোদ প্রেসিডেন্টের কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষী ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেসের নিুকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। খবর সিএনএনের।

শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন মনে-প্রাণে বর্ণবাদী। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে আসছেন।

সম্প্রতি বিরোধী ডেমোক্রেটিক দলের চার সংখ্যালঘু এমপির বিরুদ্ধে ঘোর বর্ণবাদী ও নিন্দনীয় মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। যদি তাদের তিনজনেরই জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই।

ট্রাম্পের একেবারে সাম্প্রতিক আক্রমণের লক্ষ্য বাল্টিমোরের ডেমোক্র্যাট সদস্য কৃষ্ণাঙ্গ নেত্রী এলিজা কামিংস। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান কামিংস ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচক।

মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসী আশ্রয়প্রার্থীদের যে দুর্দশায় পড়তে হচ্ছে এবং ট্রাম্পের নীতির ফলে শরণার্থীদের যে নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হচ্ছে, তা নিয়ে কামিংস খুবই সরব। কামিংস যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের শরণার্থীদের নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপগুলোর সমালোচনা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে ‘মাস্তান’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দেন।

প্রতিনিধি পরিষদের এ ওভারসাইট অ্যান্ড রিফর্ম কমিটি মূলত করদাতাদের অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার হচ্ছে কিনা, তার তদারকি করে। কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান কামিংস সম্প্রতি শরণার্থীদের আটক কেন্দ্রগুলোর পরিচালনাসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশকিছু নীতি নিয়ে তদন্তের সূচনা করেছিলেন।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন ম্যাকঅ্যালেনানের কঠোর সমালোচনা করেন। অ্যালেনানের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় কামিংস সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ‘উন্নতি সাধনের’ দাবিও তুলেছিলেন।

বলেছিলেন, অভিবাসী ইস্যু নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সহানুভূতির ঘাটতি’ আছে। এ কারণেই ট্রাম্পের দু’চোখের বিষে পরিণত হয়েছেন কামিংস। পরপর কয়েকটি টুইট করে কামিংসকে খোঁচা দিতে গিয়ে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প তাতে সামগ্রিকভাবে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের প্রতি তার বিকৃত মনোভাব ফের প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে।

বলেছেন, কামিংসের জেলা ‘ইঁদুর ও পোকামাকড়ে ভর্তি একটা জঘন্য জায়গা। এলিজা কামিংস মেক্সিকো সীমান্তের রক্ষীদের প্রতি চেঁচাচ্ছেন। কিন্তু তার নিজের বাল্টিমোর আরও বিপজ্জনক একটা জায়গা।’ বাল্টিমোরের কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র বার্নার্ড ইয়ংও ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এলিজাবেথ ওয়ারেন ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বর্ণবাদী, তা ফের বোঝা গেল।

কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব বলেছেন, ‘কামিংস আমেরিকার এমন মূল্যবোধের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন, যা বোঝার সামর্থ্যই নেই ট্রাম্পের। তিনি (কামিংস) জনগণের জন্য যুদ্ধ করা এক নেতা, যা আপনি (ট্রাম্প) কখনই হতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×