ভারতের সেনাপ্রধানের অভিযোগ

চীন-পাকিস্তান ছকে বাংলাদেশিরা আসামে

সীমান্তে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীন-পাকিস্তান ছকে বাংলাদেশিরা আসামে
ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত

আসামে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রক্সিযুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান। আর এ কাজে পাকিস্তানকে সহায়তা করছে চীন। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের এই দুই প্রতিবেশী দেশের চক্রান্ত করে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশি ঢুকাচ্ছে আসামে।

বুধবার নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সীমান্তবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত রাজ্য আসামের মুসলিমদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াটা রীতিমতো চিন্তার বলে জানিয়েছেন তিনি। সেকারণেই আসাম সরকার আলাদা করে নাগরিকত্ব প্রদান করছে, যাতে স্পষ্ট হয়ে যায় কারা বেআইনিভাবে সেখানে বসবাস করছে। এই বেআইনি অনুপ্রবেশের কারণেই আসামে এআইইউডিএফ বা অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে একটি রাজনৈতিক দল গজিয়ে উঠেছে এবং সেটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে।

এই রাজনৈতিক দলের উত্থান বিজেপির থেকেই দ্রুত গতিতে হচ্ছে বলে দাবি সেনাপ্রধানের। ২০০৫ সালে দলটি তৈরি হয়েছিল। এখন লোকসভায় তাদের ৩ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন আর আসাম বিধানসভায় ১৩ জন বিধায়ক এ দলের। বিপিন রাওয়াতের এ মন্তব্যের পরেই বিরোধিতায় সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিসু-এইত্তেহাদুল মুসলিমেন প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াসি। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক এবং সাম্প্রদায়িক কথা বলেছেন সেনাপ্রধান।

দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সেনাপ্রধানকে সবসময় নির্বাচিত দলের নেতাদের কথামতোই কাজ করতে হয়। এই নিয়ে কোনো রকম রাজনীতিকরণ করা উচিত নয় বলে দাবি ওয়াসির। তবে, বিপিন রাওয়াতের দাবি তিনি কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক কথা বলেননি। দেশের সুরক্ষার প্রশ্নেই এ মন্তব্য করেছেন।

আর দেশকে সুরক্ষা প্রদান করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। এদিকে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারত-চীন সম্পর্ক। এরই মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে চীন রণসজ্জা করছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে এক সরকারি সূত্র এমনই তথ্য তুলে ধরছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর নিজেদের শক্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে চীন। ধারণা করা হচ্ছে, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আসা যে কোনো রকম হুমকি ও পদক্ষেপ মোকাবেলা করতেই এ রণসজ্জা। খবর সিএনএনের।

সম্প্রতি চীনা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে লাইটওয়েট মাল্টি রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট জে-১০, এক আসনবিশিষ্ট জে-১১ ফাইটার জেট, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট অধিক উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন জেট নজরদারি চালাচ্ছে পশ্চিম চীনের মালভূমি এলাকায়।

মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস সেই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। চীনা বিমানবাহিনীর ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অন্যতম হাতিয়ার এই জেট ফাইটারগুলো। এ ছাড়া এ এলাকার আকাশে উড়তে দেখা গেছে জে-২০ জেট ফাইটার বিমানও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এ মহড়ার বার্তা খুব স্পষ্ট।

তা হল, চীন বড় কোনো সংঘর্ষের পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনায় দক্ষ চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড। এর আগেও ভারতের সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় নেমে চীন ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডকে ব্যবহার করেছিল।

এদিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে ২২০০ কোটি টাকা দিয়ে ১৫০টি ইনফ্যানট্রি কমব্যাট ভিইকল কিনতে চাইছে ভারতীয় সেনা।

এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের নেতৃত্বে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই এ প্রস্তাব রাখা হবে। মরু অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ট্যাংক রেজিমেন্টের সঙ্গে ঢুকে পড়তে পারবে এই সব কমব্যাট ভিইকল।

ঘটনাপ্রবাহ : আসামে বাঙালি সংকট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×