জম্মু-কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত: ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্য অশনিসংকেত

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জম্মু-কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত: ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্য অশনিসংকেত
ছবি: এএফপি

নিজেকে প্রায়ই ভারতের ‘ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা’র প্রবক্তা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দাবি করেন, রাজ্যগুলোকে অধিক স্বাধীনতা দেয়ায় বিশ্বাস করেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেয়ার ৭০ দিনের মাথায় নিজের সেই দাবির বিপরীত পথেই হাঁটলেন মোদি।

৭০ বছর ধরে যে জম্মু-কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসনের বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিল, তা এক ঘোষণাতেই বাতিল করে দিলেন। শুধু তা-ই নয়, হিমালয় পর্বত লাগোয়া ভূস্বর্গখ্যাত অঞ্চলটির রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে ভেঙে দু’ভাগ করলেন।

সেই সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে, কাশ্মীরিদের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘খাঁচাবন্দি’ করলেন। ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের এই ‘একতরফা ও অগণতান্ত্রিক’ পদক্ষেপের কারণে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এ পদক্ষেপ ভারতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। বরং দেশটির যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটল তৈরি করবে। স্বায়ত্তশাসন বাতিলের সিদ্ধান্ত অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটা ‘অশনিসংকেত’ বলেও মনে করছেন অনেকেই।

নতুন সিদ্ধান্ত মতে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ এখন সরাসরি নয়াদিল্লির শাসনে থাকবে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের প্রফেসর সুমান্ত্র বোস যাকে বলছেন ‘দিল্লির গৌরবময় মিউনিসিপালিটি’। আর্টিক্যাল ৩৭০ ছিল একটি সাংবিধানিক গ্যারান্টি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এটা আসলে প্রতীকী। কারণ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের অনেক কিছু আগেই কেড়ে নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত বিশেষ মর্যাদা পাওয়া আরও প্রায় ১৪টি রাজ্যকে ‘উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য নাগাল্যান্ডের স্বাধীনতার জোর দাবি উঠেছে। নাগাল্যান্ডের পূর্বের এলাকা বঞ্চিত- এমন দাবি তুলে ‘ফ্রন্টিয়ার নাগাল্যান্ড’ নামে রাজ্য গড়ার দাবি করেছে সেখানকার ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন (ইএনপিও) নামের একটি সংগঠন।

নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী-অধ্যুষিত নাগাল্যান্ড রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টধর্মাবলম্বী। এছাড়া নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, আসাম ও মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে নাগা স্বাধীনভূমি বা ‘নাগালিম’ গড়ার আন্দোলন বহুদিনের।

এই দাবিতে অনেক দিন ধরেই সহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন। তবে সংগঠনটি দু’ভাগ হয়ে যাওয়ার পর মুইভা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া আপাতত শান্ত নাগাল্যান্ড।

কিন্তু ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ফের নাগা জাতীয় পতাকা উড়ায় নাগারা। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সত্যিকার অর্থে অনেক কষ্টে অর্জিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার মতো উন্নত দেশে যত সহজে ক্ষমতার ভাগাভাগিকে সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মাধ্যমে করা হয়েছে ভারতের মতো একটি গরিব দেশে, সেটা তত সহজ নয়।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের প্রধান নির্বাহী ইয়ামিনি আইয়ার বলছেন, ‘সংবিধান একক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে একটি ভারসাম্য নিশ্চিত করেছে।’ যদিও বিশ্লেষকরা অনেকেই ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকেন।

আয়ার বলেন, ‘সাংবিধানিক পদ্ধতি যেখানে কাজ করে না, সেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তরা রাজ্য গভর্নর হিসেবে কাজ করেন।’ এ ধরনের সরাসরি শাসন ১৯৫১ সাল থেকে ৯৭ সাল পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ৮৮ বার হয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, স্থানীয় জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই যেভাবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হযয়েছে, সেটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনের রেকর্ডে আরেকটি বড় দাগ। ডিমিস্টিফাইং কাশ্মীর গ্রন্থের লেখক নভনিতা চাদা বেহেরা বলছেন, ‘এ পদক্ষেপের বড় তাৎপর্য হল আমরা একক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি এবং গণতান্ত্রিক নীতির বিলুপ্তি, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করছে।’

ঘটনাপ্রবাহ : কাশ্মীর সংকট

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×