কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে কারফিউ তুলল দিল্লি

১৯৭টি পুলিশি থানার মধ্যে ১৩৬টিতে কারফিউ প্রত্যাহার * ২২ জেলার মধ্যে ১২টির কার্যক্রম স্বাভাবিক চলছে

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে দিনের কারফিউ প্রত্যাহার করেছে ভারত। বুধবার কাশ্মীরজুড়ে দিনে চলাচলের ওপর কড়াকড়ি শিথিল ছিল। সরকারি নির্দেশে স্কুলগুলো খোলায় শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। রাজ্য সরকার বলছে, কাশ্মীরের কয়েকটি এলাকায় সব ধরনের কড়াকড়ি প্রত্যাহার করা হয়েছে। শ্রীনগরের পার্শ্ববর্তী বসতি এলাকা এবং বেসামরিক এলাকাগুলোয় দেয়া তল্লাশি ব্যারিকেড তুলে দেয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এখনও মোতায়েন রয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

প্রাথমিক স্কুলগুলো খুললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই নগণ্য। বিশেষ করে বেসরকারি স্কুলগুলো সুনসান। বিক্ষোভ সহিংসতার আশঙ্কায় ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। সোমবার থেকে রাজধানী শ্রীনগরের স্কুলগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশনা দেয় উপত্যকা কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিনই শহরের ৯০০ স্কুলের মধ্যে মাত্র ১৯৬টি খোলা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের উপস্থিতিও ছিল কম। এদিন থেকে সরকারি দফতরগুলোও তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, কাশ্মীরের ২২ জেলার মধ্যে ১২টির কার্যক্রম স্বাভাবিক চলছে। শ্রীনগরের কেন্দ্রে লাল চক শহরের ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ারের নিয়ন্ত্রণ ১৫ দিন পর শিথিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক সচিব এবং সরকারের মুখপাত্র রোহিত কানসাল বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের ১৯৭টি পুলিশি থানার মধ্যে ১৩৬টিতে দিনের কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবহনগুলো স্বাভাবিক নিয়মে চলতে শুরু করেছে। আন্তঃজেলা পরিবহনগুলোও তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় হাইওয়ে এবং শ্রীনগর বিমানবন্দরেও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান কানসাল।

সরকারি মুখপাত্র আরও বলেন, কাশ্মীরের ৯৩ হাজার ল্যান্ডফোন লাইনের মধ্যে ৭৩ হাজার লাইনে সংযোগ সচল করা হয়েছে। বাকিগুলোও শিগগিরই চালু করা হবে। সরকারি অফিসেও উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। তবে পাবলিক পরিবহনগুলো বন্ধ থাকায় শহরের বাজারগুলো বন্ধ। এছাড়া বুধবার ১৭তম দিনের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা।

সেনা অবরোধের বড় ভুক্তভোগী নারীরা : কাশ্মীরে অমানবিক সামরিক অবরোধের বড় ভুক্তভোগী নারীরা। এক কাশ্মীরি ভুক্তভোগীর বরাতে বুধবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। ৫ আগস্টের পর কাশ্মীরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উজমা জাভেদ। প্রতি ঘণ্টায় তিনি শ্রীনগরে তার পরিবারের দোতলা বাড়ির জানালা খুলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বের হতে পারেননি। ২০ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থী কেরালায় থাকেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে এসেছিলেন। কিন্তু আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে সেখানে ‘খাঁচায় বন্দি’ হয়ে পড়েন।

আলজাজিরাকে তিনি জানান, কাশ্মীরে অমানবিক সেনা অবরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারীরা। উজমা বলেন, ‘আমার ভাই ও বাবাকে ঘরের বাইরে যেতেই হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। রুটি-রুজির ব্যবস্থা এবং পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণে তাদের বাইরে বেরুতেই হবে। আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যখন বড় বিক্ষোভ র‌্যালি এবং সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছিল, তখন আমি ও আমার মা একা ঘরে বন্দি। বাবা ও ভাইয়ের চিন্তায় আমরা ছটফট করছিলাম।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×