বেহিসাবি হত্যার হিসাব চায় কাশ্মীরি পরিবার

হত্যা ধামাচাপা দিতেই দাঁড়িয়ে থেকে লাশ কবর দেয়াচ্ছে পুলিশ * ভয়ে ডাক্তাররাও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিচ্ছেন না * পরিবারকে মিডিয়ার সামনে মুখ বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে * কাশ্মীর ইস্যুতে মোদির সঙ্গে আলোচনা করবেন ম্যাক্রোঁ

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে গত দুই সপ্তাহে কি ঘটেছিল কিছুই সামনে আসেনি। গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় সবাই ছিল ঘোর অন্ধকারে। এখন ধীরে ধীরে সব সামনে আসছে। গত শুক্রবার রফিক সাগুর স্ত্রী পুলিশের টিয়ারগ্যাসের ঝাঁজালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। গুলি ছুড়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। হত্যা ধামাচাপা দিতেই দাঁড়িয়ে থেকে তড়িঘড়ি লাশ কবর দিয়েছে সেনা-পুলিশ। তাদের হুমকির মুখে ডাক্তাররাও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরি করছেন না। অথচ গত সপ্তাহে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জোর গলায় ঘোষণা দিয়েছিল ভারত সরকার। বুধবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এএফপিকে সাক্ষাৎকারে সাগু জানান, ৯ আগস্ট দুপুর বেলা শ্রীনগরের বাড়িতে তার স্ত্রী ফাহমিদা দুই সন্তানকে পড়াচ্ছিলেন। পাশেই সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও পেপার স্প্রে মারা শুরু করে। হঠাৎই জানালা দিয়ে একটি টিয়ারশেল ছুটে আসে। ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, কালো ধোঁয়ায় আমরা একে-অপরকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছুটে আসা আরেকটি টিয়ারগ্যাসের আঘাতে ঘরে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরিত হয়। কিভাবে যেন সন্তান দুটিকে আমরা সরাতে পারি। কিন্তু ফাহমিদা পড়ে যায় এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। ডাক্তার জানান, বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসকষ্টে তিনি মারা গেছেন। সাগু বলেন, ‘পুলিশ এ হত্যার দায় দেবে না। কিন্তু কেন? আমরা এর জবাব চাই। আমরা জানি না কোথায় এর ন্যায়বিচার পাব?’

ভারত সরকার জানিয়েছে, কাশ্মীরে কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি। শুধু ৮ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় একশ’ মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর। হাসপাতাল থেকে আটকের ভয়ে অনেকেই নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পেলেট গানের আঘাতে আহত অনেকেই এএফপিকে এমন তথ্য দিয়েছেন।

হত্যার শিকার এমন আরও দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে এএফপি। একজন উসাইব আহমেদ। ৫ আগস্ট তিনি নিহত হন। তার পরিবারের দাবি, সংঘর্ষের সময় বাড়ির পাশেই ছিল সে। পুলিশের টিয়ারগ্যাসের শেলের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। তার লাশ নদীতে ফেলে দেয় পুলিশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার পরিবারের এক সদস্য জানান, পাঁচ ঘণ্টা পর উসাইবের লাশ নদী থেকে তোলা হয়। লাশকে ঘিরে আরও বিক্ষোভের ভয়ে লাশ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আইয়ুব খান। পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের দাবি, শ্রীনগরের নিজ বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আইয়ুব। পাশেই চলছিল বিক্ষোভ। হঠাৎই পুলিশের ছোড়া দুটি টিয়ারশেল এসে পড়ে ৬২ বছর বয়সী কাঠ ব্যবসায়ীর সামনে। তাৎক্ষণিক মাটিতে পড়ে যান এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরির আগেই লাশ ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতের অন্ধকারে পরিবারের ১০ সদস্যের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে লাশ কবর দেয় পুলিশ সদস্যরা। মিডিয়ার সামনে এ বিষয়ে মুখ বন্ধের হুমকি দেয়া হয় বলে দাবি করেছেন আইয়ুব খানের বড় ছেলে সাবির আহমেদ খান। তার পরিবার কয়েকবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য হাসপাতালে গেছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রিপোর্ট না দিতে পুলিশ তাদের হুমকি দিয়েছেন। সাবির বলেন, ‘সরকারি নথিতে হয়তো বাবার মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই, কিন্তু তিনি আমাদের কাছে শহীদ। তার মৃত্যু ভারতীয় বর্বরতার আরেকটি উদাহরণ।’

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিভক্ত কাশ্মীর অঞ্চলের উত্তেজনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সপ্তাহে প্যারিসে এ দুই নেতার সাক্ষাৎকালে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। মঙ্গলবার ফ্রান্সের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান। এ সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার প্যারিসের উপকণ্ঠে চাতিয়াউ চানতিলিতে ম্যাক্রোঁ ও মোদির এক নৈশভোজসভায় বসার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×