কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীরে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে প্রতিরোধ লড়াই। ভারতীয় সেনা ও পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে এলাকার বাইরে রাখতে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে শ্রীনগরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। এর মধ্যেই এবার সশস্ত্র হামলার ডাক দিয়েছে আজাদ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো।

সেই সঙ্গে হামলার প্রস্তুতিও শুরু করেছে তারা। আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছে। সংগঠনগুলোর নেতারা বলছে, উপত্যকায় ভারতের আগ্রাসন বন্ধ না হলে পাল্টা হামলা চালাতে হাতে অস্ত্র তুলে নেবে তারা।

তবে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার লাগাম টেনে ধরতে বেশ চাপের মুখে রয়েছে পাকিস্তান। জঙ্গি হামলা ইসলামাবাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর এএফপির।

চলতি মাসের প্রথম দিকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে বিতর্কিত পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ সেনা-পুলিশ দিয়ে উপত্যকাকে কার্যত ‘খাঁচাবন্দি’ করে ফেলে।

বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা হলেও বুলেট, পেলেট ও টিয়ারগ্যাস ছোড়া হচ্ছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে স্থানীয় জনতা। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে সোরা এলাকা।

ইটপাটকেল, গাছের গুঁড়ি আর বড় বড় পাথর দিয়ে এলাকায় প্রবেশের সব রাস্তাই বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও কঠোর অবরোধ আরোপের পর পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের কয়েক দশকের দ্বন্দ্ব-সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। নয়াদিল্লির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে কাশ্মীরিদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছে পাক কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ’র ডাক দিয়ে গত সপ্তাহেই আজাদ কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল করে জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের কয়েকশ’ সদস্য। ভারতী বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার হুশিয়ারি দিয়ে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করে সংগঠনটি।

মিছিল থেকে তারিক ইসমাইল নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘ভারত যদি কাশ্মীরে তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে তাহলে সেখানে আমাদের সশস্ত্র লড়াই শুরু হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু-কাশ্মীরে নয়াদিল্লির অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়নের জেরেই ১৯৮০’র দশকের শেষ দিকে বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর গত প্রায় তিন দশকে হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। স্বায়ত্তশাসন বাতিলে ভারতের সিদ্ধান্তে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ফের বিচ্ছিন্নবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাশ্মীরিদের কণ্ঠেও সেই উত্তাপই ছড়াচ্ছে।

৪৭ বছর বয়সী সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী মোহাম্মদ আমজাদ বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘আমার ছয় ছেলেমেয়ে। আমি তাদের সবাইকেই যুদ্ধে পাঠাব। সেই দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।’ বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলনেই নিজের স্বামী, চাচাত ভাই ও ভাইপোদের হারিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী কাশ্মীরি নারী বিলৌরি বেগম।

অশ্রুসিক্ত চোখে এই মা বলছিলেন, ‘বহু কষ্টে ছেলেমেয়েদের বড় করেছি আমি। আল্লাহ চাইলে, আমি নিজেও যুদ্ধে যাব; তাদেরকেও পাঠাব।’ প্রতিরোধ লড়াইয়ের উন্মাদনা শুধু কাশ্মীরিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। চলতি সপ্তাহে জিও নিউজে পাকিস্তানের খ্যাতনামা সাংবাদিক হামিদ মীরের সঞ্চালনায় এক টকশোতে উপস্থিত সাবেক তিন কূটনীতিকই প্রতিরোধ লড়াইয়ের পক্ষে কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামাবাদের সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ কাজী বলেন, ‘কাশ্মীরিদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ে যদি পাকিস্তানিরাও অংশ নেয়, আইনত সেটাও বৈধ হবে।’

আর সংলাপে রাজি নন ইমরান খান : নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর কোনো সংলাপে যেতে আগ্রহী নন তিনি। ইমরান বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ৫ আগস্টের আগে ও পরে বারবার যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছি। তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো মানে নেই। আমি অনেক কথা বলেছি। পেছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, আমি শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি, আর তারা একে দুর্বলতা বলে মনে করেছে। আমাদের এর বেশি আর কিছুই করার নেই।’

উপত্যকায় সদস্য বাড়াচ্ছে বিজেপি

জম্মু-কাশ্মীরে ২৩ হাজার নতুন সদস্য বাড়িয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপি। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অঞ্চলটিতে নিজেদের সমর্থন বৃদ্ধির উদ্দেশে নতুন কর্মী নেয়ার এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় আরোপিত কড়াকড়ির মধ্যে নতুন কর্মী সংগ্রহের এ কার্যক্রম শুরু করল বিজেপি। বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিনাশ রায় খান্না জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি জানান, অনলাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার ১৭৪ জন নতুন সদস্য পেয়েছেন তারা। এএফপি

ঘটনাপ্রবাহ : কাশ্মীর সংকট

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত