চিদাম্বরমকে জেলে ঢুকিয়ে বদলা নিলেন অমিত?

ভারতে আর গণতন্ত্র নেই -মমতা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় (২০০৯-২০১৪) পি চিদাম্বরম যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গুজরাটে ভুয়া সংঘর্ষ মামলায় অমিত শাহকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। আর এখন কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় চিদাম্বরমকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারাই, সিবিআই।

২০০৫ সালে গুজরাটে পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গিয়েছিল সোহরাবুদ্দিন শেখ। পরে তদন্তে ফাঁস হয়েছিল ভুয়ো সংঘর্ষের কথা। তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন অমিত শাহ। সিবিআই অভিযোগ করে, অমিত শাহ-র নির্দেশেই ওই ভুয়ো এনকাউন্টার হয়েছিল। এর পরে ২০১০ সালে ওই অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই।

এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমতি বা নির্দেশ সিবিআই কর্তারা নিয়েছিলেন বলেই অনেকে মনে করেন। এবার সেই সিবিআই-ই পেছনে পড়ে গিয়েছে চিদাম্বরমের।

আপাতত আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় তাকে খুঁজছেন কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির কর্মকর্তারা। চিদাম্বরম যখন কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা বিদেশি লগ্নি এসেছিল আইএনএক্স মিডিয়ায়। অভিযোগ, চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি চিদাম্বরম এ জন্য কাটমানি পেয়েছিলেন। এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে বিদেশি লগ্নির জন্য আইএনএক্স মিডিয়াকে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে সাহায্য করেছিলেন চিদাম্বরম। আপাত ভাবে অমিত শাহ ও চিদাম্বরমের ঘটনার মধ্যে ফারাক আছে। দুটি পৃথক মামলা। কিন্তু বহু পর্যবেক্ষকের সন্দিহান চোখ। তারা সব কিছু সোজা করে দেখতে পারেন না। মিল খোঁজেন দুটি ঘটনার।

দিল্লি রাজনীতির অনেকেই আজকের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন ২০১০ সালের সেই ঘটনার। তখন কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন পি চিদাম্বরম। আর আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সিবিআই চিদাম্বরমকে গ্রেফতার করল। আর ঠিক একই ভাবে কংগ্রেস দফতরে এসে চিদাম্বরম দাবি করলেন, তিনি নির্দোষ। কংগ্রেসের অন্দরেই এখন প্রশ্ন, অমিত শাহ কি তা হলে এ বার বদলা নিলেন?

চিদাম্বরমের আইনজীবী, সঙ্গী ও কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। কিন্তু চিদাম্বরমের ভাবমূর্তি একেবারে সাফ।’

কংগ্রেস এবং বামেরা মুখ খুলেছিল আগেই। চিদাম্বরমের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। ভারতে আর গণতন্ত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করে বিজেপিকে তো আক্রমণ করলেনই, ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললেন দেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও।

পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন মমতা।

বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের অভাব ভীষণ ভাবে অনুভব করছি। গণতন্ত্র আজকে কাঁদছে।’ এর পরপরই বলেন ‘আমি আইনি বিষয় নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু অনেক সময় পদ্ধতিগুলো ভুল হয়।’ মমতার কথায়, ‘চিদাম্বরম একজন প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি দেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যে পদ্ধতিতে তাকে গ্রেফতার করা হল, তা অত্যন্ত হতাশাজনক, দুঃখজনক এবং খারাপ।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত