শেষ রক্ত দিয়েও লড়াইয়ে প্রস্তুত আদিবাসীরা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নিজেদের আবাসভূমি আমাজন রেইনফরেস্ট রক্ষায় লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন আদিবাসীরা। চলতি সপ্তাহে মাথায় কমলা রঙের কাপড় বেঁধে হাতে ধনুক উঁচিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি জানান দিয়েছেন তারা। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজনে আগুন লাগানোর ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন আদিবাসীরা।
ছবি: এএফপি

শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নিজেদের আবাসভূমি আমাজন রেইনফরেস্ট রক্ষায় লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন আদিবাসীরা। চলতি সপ্তাহে মাথায় কমলা রঙের কাপড় বেঁধে হাতে ধনুক উঁচিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি জানান দিয়েছেন তারা। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজনে আগুন লাগানোর ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন আদিবাসীরা।

তবে তারা কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এটা স্পষ্ট করেননি। আমাজনের মুরা সম্প্রদায়ের নেতারা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করছে।

মুরা জনগোষ্ঠীর নেতা ৭৩ বছর বয়সী রাইমুন্ডু প্রাইরা বেলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি ও আমাদের গাছ নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রক্ষা করব। এই আমাজন জঙ্গলে প্রায় ১৮ হাজার মুরা জনগোষ্ঠীর লোকের বসবাস। মুরা ছাড়াও এখানে আরও ৪০০ প্রকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন আছে।

তারা সবাই মিলে তাদের আবাসভূমি রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।’ রাইমুন্ডু তার জীবনের পুরো সময়টাই এ বনে বাস করেছেন।

আরেক নেতা হান্দারস ওয়াকানা মুরা বলেন, ‘প্রতিদিন অতিবাহিত হচ্ছে আর আমাদের আবাসভূমি পুড়ে ছাই হচ্ছে। ভূমি দখল, গাছ উজাড় করায় কাঠ ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। আমরা খুবই মর্মাহত। কারণ আমাদের বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা অনুভব করছি। এ সময় বিশ্বের জন্য বন খুবই প্রয়োজন।’

আমাজনের বৃহত্তম রাজ্য আমাজোনাসে বসবাস করেন মুরা সম্প্রদায়ের লোকেরা। রয়টার্সের প্রতিনিধিদের তারা ফুটবল মাঠের সমান কয়েকটি গ্রাম দেখিয়েছেন।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই ১০ হাজারটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ।

গত বছর প্রায় ৪০ হাজারটি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎস বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট আমাজন। এটি বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে শ্লথ রেখেছে। এ কারণেই একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনকি অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। মুরা জাতিগোষ্ঠীও বলসোনারোকে দায়ী করছেন।

ওয়াকানা মুরা বলেন, ‘বনে উন্নয়নের ছোঁয়া দেয়ার নামে বন উজাড় করছেন প্রেসিডেন্ট।’ কিন্তু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলছেন, তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ায় এনজিওগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে এ আগুন দিচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : পুড়ছে আমাজন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×