বেশিদিন চুপ থাকবে না কাশ্মীর

মার্কিন থিংকট্যাংক বলছে ভারত-পাকিস্তানে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মীর

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে কার্যত খাঁচাবন্দি জম্মু-কাশ্মীরের অধিবাসীরা। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাজার হাজার সেনা-পুলিশ টহল দিচ্ছে। কারফিউ জারি করে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। পাড়ায়-মহল্লায় চলছে সাঁড়াশি অভিযান। কোনো কারণ ছাড়াই যখন খুশি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিশোর-যুবকদের।

চালানো হচ্ছে নির্যাতনের স্টিম রোলার। হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে চলছে কণ্ঠ থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা। যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করা হচ্ছে নারীদের। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা বিশ্ব যাতে জানতে না পারে তার সব ব্যবস্থাই চালু রেখেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। কিন্তু এভাবে কাশ্মীরিদের দমিয়ে রাখতে পারবে না তারা। কাশ্মীরিরা এখন পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে চাইছে, তারা বেশিদিন চুপ করে থাকবে না। শিগগির পাল্টা জবাব দেবে। এক প্রতিবেদনে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের পুলওয়ামা শহরে ভারতীয় বাহিনীর একটি গাড়িবহরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয় ৪০ জওয়ান। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। এ ঘটনা প্রতিবেশী দুই পরমাণু শক্তিধর দেশকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। মার্কিন থিংকট্যাংক বলছে, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়াচ্ছে। কাশ্মীরে ভারতের নজিরবিহীন দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বছরের পর বছর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে অবহেলিতই ছিল।

কিন্তু উপত্যকার স্বায়ত্তশাসন বাতিল ও প্রায় ১০ লাখ সেনা-পুলিশ দিয়ে খাঁচাবন্দি করে ঢালাও নির্যাতন-নিপীড়নে বিশ্বের টনক নড়েছে। গত কয়েক দশকে প্রথমবারের জন্য কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ওয়াশিংটন, লন্ডন, মস্কো, বেইজিং ও প্যারিস ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত শহরে বিতর্কের প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে কাশ্মীর ও এর অধিবাসীরা।

পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরোধের মাধ্যমে কাশ্মীরকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে কাশ্মীরিদের ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। মূলধারা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিক ছাড়াও সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের ঢালাওভাবে আটক করে বন্দিশিবিরে রাখা হচ্ছে। অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর পক্ষে নানা প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত সামনে আনলেও ভারত সরকার বারবার উপত্যকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করছে। কিন্তু কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বললে এর পুরো উল্টো চিত্র ধরা পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ বছর বয়সী দুই যুবক ফরেন পলিসিকে বলেন, মধ্যরাতে তল্লাশির নামে কীভাবে কাছের এক বন্ধু মেডিকেল শিক্ষার্থী মুদাসসির হামিদ দারকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাদেরও তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।

ভারত সরকার ও সেনা-পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন অধিবাসীরা। দারের বন্ধু বলেন, আমারও জীবনের ভয় আছে। কিন্তু যখন নিজের একান্তই কাছের মানুষগুলোর ওপর আঘাত আসে, তখনই সে সবকিছু ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেয়। ওই যুবক জানান, গত দু’বছরে সেনাদের ওপর পাথর ছোড়ার অভিযোগে তার এলাকার বেশিরভাগ তরুণ-যুবককেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্দোষ কিশোরদেরও তুলে নেয়া হয়। করা হয় সীমাহীন নির্যাতন।

এর প্রতিশোধ নিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীতে যোগ দেয় তারা। কিন্তু তাদেরকে তখন সন্ত্রাসী-জঙ্গি নাম দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারত ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের’ মতো আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন দারের আরেক বন্ধু। তারা জানান, ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে তরুণ-যুবারা। ভারত নয়, পাকিস্তান নয়, তাদের দাবি এখন নিজেদের পুরো আজাদি তথা স্বাধীনতা। মুখে একমাত্র স্লোগান, একটাই সমাধান, বন্দুক, বন্দুক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×