‘মিস্টার নো ডিল’ পদবি নিয়ে জি সেভেনে বাকযুদ্ধ

ব্রেক্সিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পাশে ট্রাম্প : বড় বাণিজ্য চুক্তির প্রতিশ্রুতি * ব্রেক্সিট চুক্তি এখন সম্ভাব্য কিন্তু অনিশ্চিত : বরিস * রাশিয়াকে শিগগিরই সদস্য করতে চায় জি-৭ নেতারা * বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্র-জাপান * ইরান ইস্যুতে যৌথ বার্তায় স্বাক্ষর করেননি ট্রাম্প

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাকযুদ্ধ

চুক্তিহীন (নো ডিল) ব্রেক্সিট ইস্যুতে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। একে অপরকে ‘মিস্টার নো ডিল’ পদবি সম্বোধন করে ফ্রান্সের বায়ারিতজ শহরে জি-৭ সম্মেলনে তুমুল তর্কযুদ্ধে নামেন তারা। টাস্ক বলেন, বরিস জনসন ‘মিস্টার নো ডিল’ সেজে দেশকে ঝুঁকিতে ফেলছেন।

অন্যদিকে বরিস টাস্ককে ‘মিস্টার নো ডিল ব্রেক্সিট’ তকমা দিয়েছেন। রোববার এ ইস্যুতে আবারও দুই নেতার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৪৫তম জি-৭ সম্মেলন। এবারের এ সম্মেলনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে আমাজনে আগুন ও ব্রেক্সিট ইস্যু। ব্রেক্সিট ইস্যুতে তর্কাতর্কির মধ্যে বরিসের পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে সকালের নাস্তায় তিনি বলেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সঠিক ব্যক্তিই বরিস জনসন। তার কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই। এ সময় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইইউ’র সঙ্গে ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেন ‘গোড়ালির শক্তি’ হারাতে বসেছে। দেশটির সঙ্গে শিগগিরই একটি বাণিজ্য চুক্তি করছি। এছাড়া জাপানের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চুক্তির ধারণা খুব ভালোভাবেই শুনবে ইইউ। তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে কোনো সহায়তা করবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বরিস জোর গলায় বলে আসছেন, ৩১ অক্টোবর নির্দিষ্ট সময়েই ইউরোপ ছাড়বে ব্রিটেন। তিনি বারবার বলে আসছেন, একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তিসহ ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন হবে। তবে ব্যাকস্টপ নীতি বাতিল করতে জিদ ধরেছেন বরিস। তিনি বলেন, আগের সরকারের করা চুক্তি থেকে ব্যাকস্টপ নীতিটি বাদ দিতে হবে। কিন্তু ‘মিস্টার নো ডিল ব্রেক্সিট’ টাস্ক এটি মানতেই চাইছেন না। বরিস আরও বলেন, ব্রেক্সিট চুক্তিটি এখন সম্ভাব্য, কিন্তু অনিশ্চিত।

এজন্য আমাদের চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পর ইইউভুক্ত স্বাধীন আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্তে মানুষ ও পণ্যের বাধাহীন চলাচলের নিশ্চয়তাকে বলা হচ্ছে ব্যাকস্টপ। ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, আমি আশা করছি প্রধানমন্ত্রী জনসন ‘মিস্টার নো ডিল’ হিসেবে পূর্বের ইতিহাসে ফিরে যাবেন না। ইইউ সর্বদা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত ছিল। আমরা যে বিষয়টিতে সহযোগিতা করব না, তা হল চুক্তিহীন ব্রেক্সিট। আমরা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে কার্যকরী, বাস্তববাদী এবং গ্রহণযোগ্য এমন ধারণাগুলো শুনতে ইচ্ছুক।

এএফপি জানায়, ইরান পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে একটি যৌথ বার্তায় সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো আলোচনা করিনি। সম্মেলনের এক ফাঁকে সংক্ষেপে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরান এ বিষয়ে যা বলতে চায় জি-৭ নেতারা সে বিষয়ে একমত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×