শুধু ফুসফুস নয়, পুরো শরীর পুড়ছে পৃথিবীর: আমাজনে আরও শত শত স্থানে আগুন

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগুন

‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজন আগুনে পুড়ছে। ব্রাজিল সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গলে সোনার খনি সন্ধানকারীরা আগুন লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশবিদদের।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এ অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আমাজনে সেনা মোতায়েন করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনামে এখন এ আগুন। তবে শুধু ফুসফুস নয়, পৃথিবীর পুরো শরীর দাবানলে পুড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে শনিবার খবর প্রকাশ করেছে গ্লোবাল নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্র : চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার বন বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি তিন স্থানে দাবানল শুরু হয়েছে। তবে এতে মানুষের হাত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আটলান্টায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। আবহাওয়াবিদরা বলেন, এরিনা বনে প্রথম দাবানল শুরু হয়। সেখান থেকেই পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর ক্যালিফোর্নিয়াও ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছিল। চলতি সপ্তাহেও ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে আবারও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

সাইবেরিয়া : রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বনে অবৈধ কাঠ ব্যবসার কারণে আগুন লাগার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ভক্স নিউজের তথ্যানুসারে, সাইবেরিয়ার ২১ হাজার বর্গমাইল বন আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিল।

স্পেন : চলতি বছর সর্ববৃহৎ দাবানলের কবলে পড়েছিল স্পেন। আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্যটক দ্বীপ গ্র্যান্ড কানারিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে এ দাবানলে পুড়েছিল ৪৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা। ঘরছাড়া হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার মানুষ।

গ্রিক : গত মঙ্গলবার গ্রিক দ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। উচ্চ তাপমাত্রা ও তীব্র বাতাসের কারণে এথেন্সের এভিয়া ইস্ট দ্বীপে দাবানল শুরু হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রিসে প্রতিবছরই এমন দাবানলের ঘটনা ঘটে।

বলিভিয়া : গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়ার একটি গ্রিষ্মমণ্ডলীয় বনে লাগা দাবানল নেভাতে মাঠে নামে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী। এ দাবানলে পুড়ে গেছে প্রায় ১৬ লাখ একর বন। সামরিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিল সীমান্ত লাগোয়া বলিভিয়ার বন আগুনে পুড়ছে।

গ্রিনল্যান্ড : জুলাই মাসে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে দাবানল ছড়িয়েছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে দাবানল নেভাতে গ্রিনল্যান্ডে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী পাঠিয়েছিল ডেনমার্ক। বিজ্ঞানীরা হুশিয়ারি করেছেন যে, দ্বীপে আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে গ্রিনল্যান্ডের বরফের আস্তরণ দ্রুতগতিতে গলে যাবে।

ইউরোপ : গত জুনে ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। নিজেদের কীভাবে শীতল রাখতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো সে বিষয়ে বিভিন্ন পরমার্শ ইস্যু নিয়ে বৈঠকও করেছিল। এ ছাড়া জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক রিপাবলিক- এ তিনটি দেশে জুন মাসের তাপমাত্রা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে বয়ে আসা অত্যন্ত গরম বাতাসের কারণেই ইউরোপে এ অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তীব্র গরম জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে বলে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের কর্মকর্তারা।

দাবানল নেভাতে আমাজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মধ্যে বনটির আরও শত শত স্থানে নতুন করে আগুন লেগেছে। ১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত আমাজন। বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্স জানিয়েছে, চলতি বছর বনে প্রায় ৭৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর নীতিকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বন পুড়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নীতির জন্য নিজ দেশের পরিবেশবাদীদের কাছেও তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। বলসোনারোর নীতির কারণেই চলতি বছর ব্রাজিলে পরিবেশ অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে আইন লঙ্ঘনে জরিমানা করার সংখ্যা বা দণ্ড কমেছে। দেশটির পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যেই এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পরিবেশ সংক্রান্ত অপরাধে জরিমানা করার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম হয়েছে বলে দেখা গেছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। সর্বশেষ আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাজিলিয়ান অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে অন্য দেশগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাপের মুখে শনিবার আমাজনে সেনা মোতায়েন করে বলসোনারো সরকার। এর মধ্যেই সেখানে নতুন করে সহস্রাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর এলো।

নতুন করে সহস্রাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য। বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ রকমের আগুনের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। এসব রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাইছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×