ব্রেক্সিট : ব্রিটেনের চার বছরের বিড়ম্বনা

ক্যামেরন গেল পারলেন না তেরেসাও, চুল ছিঁড়ছেন বরিস

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটেনের ব্রেক্সিট বিড়ম্বনা। সমকালীন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট। ‘হ্যাঁ-না’র টানাটানিতে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে জনগণ। গত প্রায় চার বছর ধরে খাড়ার মতো চেপে বসেছে ভূ-খণ্ডের গলায়। হাঁপিয়ে উঠেছেন একসময় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করা এ দেশটির তাবড় তাবড় রাজনীতিকরা। পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির দুই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও তেরেসা মে।
ছবি: এএফপি

ব্রিটেনের ব্রেক্সিট বিড়ম্বনা। সমকালীন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট। ‘হ্যাঁ-না’র টানাটানিতে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে জনগণ। গত প্রায় চার বছর ধরে খাড়ার মতো চেপে বসেছে ভূ-খণ্ডের গলায়। হাঁপিয়ে উঠেছেন একসময় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করা এ দেশটির তাবড় তাবড় রাজনীতিকরা। পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির দুই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও তেরেসা মে।

পূর্বসূরিদের মতোই নাজেহাল অবস্থা সদ্য দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনেরও। ব্রেক্সিটের ত্রাতা হয়ে যিনি নিজের চওড়া কাঁধে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। খামখেয়ালি, গোঁয়ার, সদা প্রফুল্ল তকমাখ্যাত সেই বরিসও মুখ থুবড়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পরীক্ষাতেই ফেল- একেবারে ডাব্বা।

মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন জোটাতে পারেননি। সংকটে পড়ে এখন নিজেই নিজের চুল ছিঁড়ছেন। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী ব্রিটিশ রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ ও তার দোসরদের ‘হাওয়া গরম’ প্রচারণার জেরে ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ঝড় শুরু হয়।

ব্রিটেন ইউনিয়নে থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে গণভোট হয় একই বছরের ২৩ জুন। ভোটে হেরে যায় ইইউপন্থী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। ব্রেক্সিট গণভোটের পরজায় মেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগ করেন।

২০১০ সালের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ক্যামেরনের পর ব্রেক্সিটের বোঝা কাঁধে নিয়ে ক্ষমতায় বসেন তেরেসা। কিন্তু তিন বছরের চেষ্টা সত্ত্বেও ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেননি।

ইইউ নেতাদের সঙ্গে দু’বছরের আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হন। কিন্তু পার্লামেন্টে তিনবার ভোটাভুটি সত্ত্বেও চুক্তিটি পাস করতে ব্যর্থ হন তিনি।

এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার তিন বছরের মাথায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলতি বছরের ৭ জুন সরে দাঁড়ান মে। এর প্রায় এক মাস পর ২৪ জুলাই শপথ নেন বরিস।

ইতিমধ্যে দুই-দুই বার ব্রেক্সিটের দিনক্ষণ পিছিয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার তারিখ নির্দিষ্ট রয়েছে। বরিস বলছেন, চুক্তি হোক বা না হোক এই তারিখের মধ্যে ব্রেক্সিট হবে। কিন্তু চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে বিরোধীরা। বরিসের চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে মঙ্গলবার এক ভোটাভুটির মাধ্যমে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর বহিষ্কারের হুমকি সত্ত্বেও দলের বিপক্ষে ভোট দেন কনজারভেটিভ দলের ২১ জন সদস্য। ফলে ৩২৮-৩০১ ভোটে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন বরিসের দল। এর মাধ্যমে মূলত সহজেই ব্রেক্সিট এজেন্ডা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাকে অনায়াসে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিরোধীরা। ব্রেক্সিট নিয়ে পূর্বসূরিদের মতোই জালে আটকে গেছেন বরিস। গুরুত্বপূর্ণ ভোটের পরাজয়ের পর পূর্বসূরি তেরেসার পথই ধরেছেন বরিস।

আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন এবং সেটা অবশ্যই ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তীব্র সংকটের মধ্যে পড়েছেন তিনি। কারণ আইন মতে, আগাম নির্বাচন আয়োজনের জন্য পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। তেরেসার বিদায়ের পর থেকে আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও এখন বেঁকে বসেছেন বিরোধী দলের লেবার নেতা জেরেমি করবিন।

তিনি বলেছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত কোনো আগাম নির্বাচনে যাবে না তার দল।

ঘটনাপ্রবাহ : ব্রেক্সিট ইস্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×