নিয়ম না মানা জাত পোলিশ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

আইন-কানুন মেনে চলার ব্যাপারে খুবই কঠোর ইউরোপীয়রা। কিন্তু উত্তর গোলার্ধের দেশ পোল্যান্ড ঠিক এর উল্টো। এ জাতটার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পোলিশরা আইন-কানুন ও নিয়ন-নীতির তোয়াক্কা করে না। শুধু তাই নয়, এটাকে রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখে তারা। মানসিকতা অনেকটা এ রকম- ‘মরতে রাজি তবু আইন মানব না’।

আর তাই নিয়ম না মানা জাত হিসেবে বিশ্বসেরা স্বীকৃতিও পেয়েছে এরা। প্রচলিত প্রথা বা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কাজ হাসিল করার চেষ্টা প্রায় সবার মধ্যেই।

চাকরি-বাকরি, বড় কোনো পদ বা কাক্সিক্ষত কোনো বস্তু অর্জনে চাচা-মামা-খালুর পরিচয় ব্যবহার কিংবা অবৈধ উপায় অবলম্বন তাদের কাছে নাওয়া-খাওয়ার মতোই একটা বিষয়।

স্রেফ ধাপ্পাবাজির আশ্রয় নেয়ার বদভ্যাস যেন তাদের রক্ত-মাংসে মিশে আছে। নিয়ম না মানার এই সংস্কৃতি সমাজে ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। নিয়ম ভঙ্গ করাকে যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। সেই যোগ্যতায় কিছু বাগিয়ে নেয়া ব্যক্তিটিকে দেয়া হয় বাহবা।

বিবিসি জানিয়েছে, পোলিশদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আজকের নয়। কয়েকশ’ বছরের। বর্তমানে ইউরোপ যখন সারাবিশ্বকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর আইন-কানুনের সবক দিয়ে বেড়াচ্ছে তখনও নিয়ম-কানুনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে পোলিশরা। আইন-কানুনের প্রতি তারা কতটা উদাসীন তা একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে পোল্যান্ডে যান এক ইহুদি।

রাজধানী ওয়ারশোতে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, শহরের প্রধান রেলস্টেশন সেন্ট্রাল স্টেশনে একটি দেয়ালে টানানো পোস্টারে লিখা, স্টেশনে রুটি বিক্রি করলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। অথচ সেই পোস্টারের নিচে দাঁড়িয়েই রুটি বিক্রি করছেন এক পোলিশ নারী।

পোলিশদের এমন নিয়ম না মানার হাজারো ঘটনা পরে নিজের এক স্মৃতিকথায় লিখে গেছেন ওই ইহুদি। সেখানে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের নাগরিকেরা যখন বিনা প্রশ্নেই নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে, ওয়ারশোর বাসিন্দারা তখন সেগুলো কোনো রকম পাত্তাই দেয় না। খেয়াল-খুশি মতো কখনও হয়তো ‘আইনের অর্ধেকটা মানল। কখনওবা বৈধ-অবৈধ’র ঝামেলায় না গিয়ে গোপনেই কাজটা সেরে নিল।

এ ধরনের চরিত্রের মানুষগুলোকে ভালোভাবে বোঝাতে পোলিশ ভাষায় বেশ কিছু শব্দ রয়েছে। ‘কোয়ানিয়াক’ তেমন একটি শব্দ। শব্দটি দিয়ে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি ‘ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে’ ভালোবাসেন। অর্থাৎ সবসময় নিয়ম-পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেন।

এ কাজে পটু যারা, তাদের বোঝাতে ‘কোয়ানিকোয়াক’ শব্দটি ব্যবহার হয়। ‘জালাতুইক’ শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় যারা মামা-খালুর পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা জাল-জালিয়াতি করে বা অবৈধ যেকোনো পন্থার আশ্রয় নেয়। ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘৃণার চোখে দেখা হলেও পোলিশ সমাজে এগুলোকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উপরোল্লিখিত কোয়ানিয়াক শব্দটিকে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার হয়।