পাঁচ সপ্তাহ স্থগিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন ইস্যুতে সোমবার পার্লামেন্টে শেষ দফা ভোটাভুটির কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সমর্থিত এমপিরা চাইছেন- পার্লামেন্ট এ বিলটিকে অনুমোদন দিয়ে আগাম নির্বাচনের পথ করে দিক।

পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ার আগে বিলটি পাস করার ক্ষেত্রে একে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী এমপি এবং বিরোধী লেবার দলের জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের আনা এ বিলটি পাস হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

এ ভোটাভুটির পরেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিট। বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত থাকবে।

এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহী ও বিরোধী দলের এমপিরা ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা বর্ধিত করার আহ্বান সংবলিত একটি বিল পাস করেছে। বিলটি রাজকীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। যদি তা সোমবার ভোটাভুটিতে অনুমোদন পায় তাহলে বিলটি আইনে পরিণত হবে।

এতে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবরের আগেই যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা ৩১ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে।

এতে ব্রাসেলসের সঙ্গে দরকষাকষিতে সরকারকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ মন্ত্রীরা। পার্লামেন্টে এমন বিদ্রোহের মুখে পড়ে প্রথম দফায় আগাম নির্বাচন আহ্বান করেন বরিস। কিন্তু এতেও পরাজিত হন তিনি।

ব্রিটেনের পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ার আগে ডাউনিং স্ট্রিট আগাম নির্বাচনের বিল আনছে পার্লামেন্টে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে- একটি আগাম নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এটা হবে বিরোধী লেবার দলের জন্য শেষ সুযোগ। এ বিল পাস করাতে হলে সরকারকে দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে।

গত সপ্তাহে প্রথম দফায় আনা একই রকম বিল এ পরিমাণ সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়। ফলে এবারও ব্যর্থ হবে বলেই আশা করছেন বরিস সমর্থিত এমপিরা।

পার্লামেন্ট স্থগিত করার এ সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক বলে জানিয়েছেন লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেন, পার্লামেন্ট চালু থাকা উচিত। পার্লামেন্টে সরকারকে জবাবদিহি করতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন থেকে পালাতেই পার্লামেন্ট স্থগিত করছেন।

এদিন সকালে ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বরিস জনসন। ভারাদকারকে আয়ারল্যান্ড নিয়ে ইইউর সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ একটি চুক্তিতে পৌঁছাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা।

এদিকে, পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ। তিনি বলেন, ‘আগাম নির্বাচনের সময় অথবা ৩১ অক্টোবর, যেটি আগে আসবে, সেসময় আমি পদত্যাগ করছি।’

সোমবার পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘১০ বছরের সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসছে। এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করায় আমি গর্বিত।’ প্রয়াত মাইকেল মার্টিনের উত্তরসূরি হিসেবে ২০০৯ সালে স্পিকার হন সাবেক এ টোরি এমপি।