লাখ লাখ মুসলমান বন্দিশালায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে আসাম

রাজ্যের ছয় স্থানে দুই হাজার লোককে বন্দি করা হয়েছে * আসামের বিদেশিরা অন্য গ্রহের মানুষের মতো

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই বছর আগে নাগরিকত্ব শনাক্তকরণের একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আসাম সরকার। এর উদ্দেশ্য হল, ১৯৭১ সালের মার্চের পর থেকে যারা সেখানে অবস্থান করছে তাদের উচ্ছেদ করা। এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের খসড়া তালিকাও প্রকাশ করেছে আসাম সরকার। এতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক লাখ মুসলিম সেখান থেকে বিতাড়নের শিকার হবে। এ নিয়ে সেখানকার মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে। যারা নাগরিকত্ব পাবে না, তাদের বাংলাদেশ গ্রহণ না করলে বন্দিশালায় রাখা হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দিশালাও নির্মাণ করছে আসাম সরকার। আর বন্দিশালায় যারা থাকবে তাদের কোনো মর্যাদা থাকবে না। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা শুধু অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সুযোগ পাবে।

সোমবার দ্য গার্ডিয়ান এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, নববর্ষের ঠিক আগের দিন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসাম রাজ্যের সরকার ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের একটি তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু সেখানে হানিফ খানের নাম ছিল না। পরের দিন খুব সকালে কাছাড় জেলার বাসিন্দা ট্যাক্সিচালক হানিফ খানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার স্ত্রী রুশকা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, তালিকায় নাম না থাকায় সে আত্মহত্যা করেছে।’ দুই বছর আগে বাংলাদেশ-ভুটান সীমান্তবর্তী আসাম সরকার নাগরিকত্ব শনাক্তকরণ কর্মসূচি চালু করে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অসম্পন্ন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে ১ কোটি ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ পড়ে। কর্মকর্তারা বলেন, চূড়ান্ত তালিকায় আরও কয়েক লাখ নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। ওই কর্মসূচিতে আসামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেইসঙ্গে এ পূর্বাভাসও দিচ্ছে যে, ভারত লাখ লাখ লোককে রাষ্ট্রহীন করতে যাচ্ছে। খসড়া তালিকাটি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আতঙ্কে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী খান, যদিও তার জন্ম আসামেই। এমনকি তার মাও ভারতীয়। শুধু তার বাবা আফগান নাগরিক, যিনি অনেক বছর আগেই দেশে ফিরে গেছেন। খানের স্ত্রী বলেন, ‘সে (স্বামী) অনেকবার আমাকে বলেছে, ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছে তা যথেষ্ট নয়।’ আগামী বছরগুলোতে ‘বিদেশি’দের উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেয়ায় আসাম সরকার নতুন করে একটি বন্দিশালা নির্মাণ করছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্তত ছয়টি স্থানে দুই হাজার লোককে বন্দি করা হয়েছে। রুকশা জানান, তার স্বামী প্রায়ই ওই বন্দিশালার কথা বলত এবং বাড়ির পাশে পুলিশের গাড়ি দেখলে আঁতকে উঠত।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার আগে এসব অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতে কোনো বাধা ছিল না। এরপর গত কয়েক দশক ধরে খুব কম লোকই অব্যাহতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে। যদিও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছে। ছিটমহলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত ফোঁকর থাকার কারণে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভারত যাওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী চোরাকারবারি সন্দেহে প্রায় এক হাজার লোককে গুলি করে মেরেছে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি থেকে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে বেড়া ৩,৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার ফ্ল্যাডলাইট ও ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী আমান ওয়াদুদ বলেন, ‘এখানকার ‘বিদেশি’রা অন্য গ্রহের মানুষের মতো।’ আসামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাজার হাজার অভিবাসী ভোটার হয়েছেন এবং চাকরি পেয়েছেন ও জমি কিনেছেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.