ড্রোন হামলায় সৌদি তেল উৎপাদন অর্ধেকে নামল

ইরানকে দোষারোপ যুক্তরাষ্ট্রের * সৌদি যুবরাজকে ট্রাম্পের ফোন * তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে মার্কিন ঘাঁটি

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল স্থাপনা। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তেল উৎপাদন। ফলে একদিনের ব্যবধানে তেল উত্তোলন ও সববরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগামী কয়েকদিনেও স্থাপনা দুটির মেরামত সম্ভব নয়। বরং পুরোদমে তেল সরবরাহে ফিরতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সৌদির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে ড্রোন হামলায় হুথি বিদ্রোহী নয়, ইরানের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক ফোনালাপে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই হামলার পাল্টা জবাব দেয়া হবে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যুবরাজ। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মামের কাছে শনিবার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর আবকাইক ও খুরাইস নামে দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন লেগে যায়। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় তেল স্থাপনা দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে একদিনেই ৫৭ লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদন হয়েছে এবং ফের তেল উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যাবে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আরামকো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। তেল উৎপাদন শুরু করতে রোববার থেকেই স্থাপনা দুটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তার সময়সীমা উল্লেখ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই এর দায় স্বীকার করে হুথি বিদ্রোহীরা। কিন্তু হুথিদের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বরাবরের মতোই ইরানের দিকে আঙুল তুলেছে ওয়াশিংটন। রোববার এক টুইটার বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘হুথিরা ড্রোন হামলা করেনি। ইয়েমেন থেকে এমন হামলার কোনো প্রমাণ নেই। ইরান হুথিদের নাম করে অভিনব কৌশলে দাম্মামের অদূরে বাকিয়াক এলাকার সেই তেলকূপে হামলা চালিয়েছে।’ মাইক পম্পেওর দাবি, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার ভান করে সৌদি আরবে প্রায় একশ’ হামলা চালিয়েছে। অচলাবস্থা নিরসনের সব আহ্বান উপেক্ষা করে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর অভিনব হামলা চালাচ্ছে।’ কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ওয়াশিংটনের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। পম্পেওর অভিযোগের জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টা করছে। রোববার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেন, ‘এমন ভিত্তিহীন ও অন্ধের মতো অভিযোগ আর মন্তব্যের কোনো অর্থ হয় না। মুসাভি আরও বলেন, আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় ওয়াশিংটন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক কমান্ডার। তার দাবি, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটিগুলো তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×