সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলা

স্যাটেলাইটে প্রমাণ নেই যুক্তরাষ্ট্র বলছে ইরান

রিয়াদকে ইরান যুদ্ধের কানভাঙানি ওয়াশিংটনের * ইরাক হামলার মতোই মিথ্যা অজুহাত যুক্তরাষ্ট্রের

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য কড়া প্রমাণ হাজির করার চেষ্টাও করেছে দেশটি। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট ছবি সামনে এনে তেহরানের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছে ওয়াশিংটন। তারা বলছে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের এমন হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই। অথচ মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ ও সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যে হামলা চালিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। মূলত এর মাধ্যমে ইরাকের মতো ইরানেও হামলা চালানোর মিথ্যা অজুহাত খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানকে দোষারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং তেলের খনি দখল করবে।

শনিবার সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকানাধীন আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিনই এ হামলার দায় স্বীকার করে হুথিরা। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ইরান বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ওপর আঘাত হেনেছে। আর এ আঘাত যে ইয়েমেন থেকেই এসেছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। এরপর রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দোষারোপ করে যুদ্ধের হুমকি দেন। বলেন, সৌদি হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান হামলায় পুরোপুরি প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার আবার নতুন করে বলেন, ইরান জড়িত থাকলেও আমি যুদ্ধ চাই না। ড্রোন হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে দাবি করে রোববার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, এ হামলায় ২০টি ড্রোনের পাশাপাশি অন্তত এক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হামলার ব্যাপ্তি ও গতিপথের কারণে হুথিদের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হামলা ও লক্ষ্যবস্তুর ১৭টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়, সৌদি তেল স্থাপনার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই হামলাটি উত্তর উপসাগর, ইরান বা ইরাকের কোনো ঘাঁটি থেকে চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও ইরাক তাদের ভূখণ্ড থেকে হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিসের গবেষক ফাবিয়ান হিঞ্জ বলেন, হামলা ইয়েমেন থেকেই হয়েছে। কারণ ইরানের অত্যাধুনিক কুদস-১ ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির তেলক্ষেত্র পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা নেই। ভূস্থানিক বিশ্লেষক অ্যাডাম সিমন্স জানান, হামলার নিপুণতা ও ক্ষতির মাত্রায় এটা অনেকটা নিশ্চিত যে ক্ষেপণাস্ত্র থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, কোথা থেকে হামলা হয়েছে, কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারা হামলা চালিয়েছে- স্যাটেলাইট ছবিতে এগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও একই কথা জানিয়েছে।

এসব মিথ্যা প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে কার্যত ইরাকের মতো ইরানে হামলার মিথ্যা অজুহাত খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সৌদি আরবকে ইরান যুদ্ধের জন্য কানভাঙাচ্ছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে দেশটিতে হামলা চালায়। ২০০৬ সালে সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×