আফগানিস্তানে নির্বাচন বানচালে একের পর এক হামলা তালেবানের

তিন দিনে তিন হামলা, নিহত ৬৮ আহত দুই শতাধিক * ভোটে অংশ না নিতে শিক্ষক ছাত্র-জনতাকে হুশিয়ারি

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ৮ দিন বাকি। আসন্ন এই নির্বাচন বানচাল করতে আদা-জল খেয়ে লেগেছে দেশটির তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী।

অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে হামলার মাত্রা ও সংখ্যা ততই বাড়াচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভয়াবহ তিনটি হামলা চালানো হয়েছে।

এসব হামলায় অন্তত ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে দুইশ’ জন। ভোটে অংশ না নিতে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার প্রতি হুশিয়ারিও দিয়েছে সরকারবিরোধী এই গোষ্ঠীটি। খবর এএফপির।

সর্বশেষ দক্ষিণাঞ্চলের জাবুল প্রদেশের কালাত শহরে হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের একটি হাসপাতালের বাইরে ট্রাকভর্তি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জাবুলের প্রাদেশিক প্রধান জানান, অন্তত ৩০ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। ওই হামলায় হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসক ও রোগী। হামলার পরই তালেবান জানায়, হাসপাতালের বাইরে একটি সরকারি গোয়েন্দা কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে তারা। মার্কিন বিমান বাহিনীর সহায়তায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। বৃহস্পতিবার বাহিনীর এক ভুল হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।

এর দুদিন আগে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাবুলে আশরাফ ঘানি ও তার দলের অন্য একটি নির্বাচনী সমাবেশে পরপর দুটি আত্মঘাতী হামলা চালায় তালেবান। নিহত হয় ৪৮ জন নেতাকর্মী।

আহত হয় আরও কয়েক ডজন। সেদিন প্রথম আত্মঘাতী হামলার ঘটনাটি ঘটে রাজধানী কয়েক কিলোমিটার উত্তরে পারওয়ান প্রদেশে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নির্বাচনী জনসভায়।

মঞ্চে জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় এক মোটরসাইকেলে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী। এতে ২৬ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক নিহত হয়।

আহত হয় ৪২ জন। ঠিক এক ঘণ্টা পরই কাবুলের কেন্দ্রে মার্কিন দূতাবাসের কাছেই আরেক হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো শহর। এ হামলায় ২২ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়।

এসব হামলার দায় স্বীকার করে তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা ও সমাবেশে অংশ না নিতে জনগণকে আমরা আগেই সতর্ক করেছি। এরপরও যদি তারা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় সেই দায় তাদের নিজেদের।’

নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে বুধবার বিবৃতি দিয়ে ভোটে অংশ না নিতে শিক্ষক-ছাত্র ও জনতার প্রতি হুশিয়ারি জারি করে তালেবান। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো শিক্ষক বা ছাত্রই যেন নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা না করে। কোনো স্কুল-কলেজ বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্বাচনী কেন্দ্র না করা হয়। অন্যথায় সবাইকে হত্যা করা হবে।