ক্যাসিনো : নেশার ঘোরে নোট ওড়ে

ক্যাসিনো : এক মজার জায়গাই বটে! মৌজ-মাস্তি আর জুয়ার আড্ডা। চলে রমরমা ব্যবসাও। মৌমাছির মতো ভিড় জমায় জুয়াড়িরা। মেতে ওঠে লাল পানির নেশায়। ঘোরের ঘরে ওড়ায় কোটি কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই গড়ে উঠেছে টাকা ওড়ানোর এ নিশিপুরীর আসর। খেলার ছলে মন মজাতে ক্যাসিনোতে ভিড় করে দেশ-বিদেশের সব পয়সাওয়ালারা। যুগান্তর পাঠকদের জন্য বিশ্বের সেরা দশ ক্যাসিনো নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজন-

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ছবি: সংগৃহীত

বেল্লাজিও (লাসভেগাস, যুক্তরাষ্ট্র)

বিশ্বের ক্যাসিনোর তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে লাসভেগাসের বেল্লাজিও। এটা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্যাসিনোও বটে। আভিজাত্য, প্রাচুর্য আর নান্দনিক অবস্থানে নিজেকে সবার থেকে আলাদা আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। সামনের আট একরের লেকটিতে তার আলোকোজ্জ্বল ও অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

সেই সৌন্দর্য আরও বাড়ি তোলে অবিরাম নৃত্যরত পানির ফোয়ারা। বিশাল পোকার কক্ষ, হাই টেবিল লিমিট সুবিধা এবং ২ হাজার ৩০০ স্লট মেশিন থাকায় প্রফেশনাল জুয়াড়িরা এই ক্যাসিনোতে বেশি ভিড় জমান। এখানে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার থেকে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত জুয়ার বাজি ধরার সযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে বাজি ১০ লাখ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।

ভ্যানেতিয়ান (ম্যাকাও, চীন)

৫ লাখ ৩০ হাজার ফুট ক্যাসিনো ফ্লোর নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাসিনো ম্যাকাওয়ের ভ্যানেতিয়ান। আকর্ষণীয় এই ক্যাসিনোটি ভেতর এবং বাহির দুদিক থেকেই দেখতে অপরূপ। ক্যাসিনোর মার্বেল পাথরে তৈরি লবি আর নান্দনিক আলোকসজ্জার মুগ্ধতায় ছুটে আসে জুয়াড়িরা। ক্যাসিনোটির প্রতিটি খেলার স্পট ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি। ৫০০টি টেবিল ও হাজার হাজার স্লট মেশিনসহ খেলার বিশাল সংগ্রহ রয়েছে এই ক্যাসিনোয়। যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে তৈরি ভেনেতিয়ানে প্রতিদিন ওড়ে হাজার কোটি ডলার-ইউয়ান।

সিজার্স প্যালেস, (লাসভেগাস, যুক্তরাষ্ট্র)

সিজার্স প্যালেস নাম হলেও রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। রোমান স্থাপত্য রীতি আর মার্বেলের কলামে তৈরি বিলাসবহুল কমপ্লেক্সটি মূলত এর প্যাঁচানো লিফট আর ১ লাখ ৫০ হাচার বর্গফুটের ক্যাসিনো ফ্লোরের জন্য বিখ্যাত।

নানা ধরনের টেবিল গেম, অসংখ্য পোকার ও স্লট ম্যাশিন এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্যাসোনিতে পরিচিত করেছে।

ক্যাসিনো ডি মন্টিকার্লো (মন্টিকার্লো, মোনাকো)

মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতি এবং চোখ ধাঁধানো সজ্জার ক্যাসিনো ডি মন্টিকার্লো জুয়ার জগতের এক বিস্ময়কর নাম। এটাকে কথায় জুয়ার প্রাসাদ বলা যায়। ইউরোপের বিখ্যাত ক্যাসিনোর মধ্যে মোনাকোর মন্টি কার্লো ক্যাসিনো অন্যতম। প্রতিদিন এখানে বিলিয়ন ডলারের গ্যাম্বলিং হয়। কেউ হারে কেউ জেতে, নম্বরের চাকা ঘোরে।

মোনাকোকে তাই বিলিয়নিয়ারদের খেলার মাঠও বলা হয়। ছোট্ট দেশ মোনাকোর এক অর্থনৈতিক স্তম্ভ এই ক্যাসিনো। মোনাকোর রাজকুমারীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই ক্যাসিনো এক সময়ে মোনাকো দেশটিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিল। মধ্যযুগীয় স্থাপত্য দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এই ক্যাসিনোর সুরক্ষা একদম অত্যাধুনিক।

সান সিটি রিসোর্ট (রুসতেনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা)

নামের শেষে রিসোর্ট থাকলেও এর ক্যাসিনোর খ্যাতি কম নয়। আড়ম্বর আর আতিশয্যে বিশ্বের শীর্ষ দশ ক্যাসিনোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার রুসতেনবার্গের সান সিটি রিসোর্ট। ক্যাসিনো ভবনে ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট এলাকাজুড়ে বসে জুয়ার আসর।

রয়েছে ৮২৫টি স্লট, ৩৫টি টেবিল গেম আর অভিজাত ডাইনিং ও ৫টি বিলাসবহুল হোটেল। গলফাদারদের জন্য রয়েছে বিশাল গলফ মাঠ।

এম্পায়ার (লন্ডন, ইংল্যান্ড)

লন্ডনের এম্পায়ার ক্যাসিনো যেন এক সময়কার বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রাচীন এম্পায়ার বলরুমটি ২০০৭ সালে নতুন করে নতুন রূপে ফিরে আসে। বর্তমানে লন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্যাসিনো হিসেবে নিজের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছে।

৫ হাজার ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জনপ্রিয় গেম নিয়ে এম্পায়ারের দুটো ফ্লোরজুড়ে বসে আসর। রয়েছে বিশ্বের অত্যাধুনিক সব স্লট ম্যাশিন আর টেবিল গেম। আরও রয়েছে আধা মাইলের হারনেস রেসিং লাইন। এর পোকার রুমেও রয়েছে বিশ্বের বড় বড় পোকার খেলাগুলো।

ক্যাসিনো ব্যাডেন ব্যাডেন (ব্যাডেন, জার্মানি)

১৮২৪ সালে নির্মিত জার্মানির ব্যাডেন শহরে অবস্থিত ব্যাডেন ব্যাডেন ক্যাসিনো। ধ্রুপদি ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে তৈরি বিশাল ভবনটি প্রাসাদোপম। উনিশ শতকের প্রথম দশকে ফ্রান্সে যখন জুয়া সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়, ব্যাডেন ব্যাডেনের খ্যাতি তখন চারদিকে ছড়িয়ে যায়।

নাৎসি হিটলারের দেশের ব্ল্যাক ফরেস্ট অঞ্চলের এই ক্যাসিনোতে রয়েছে অভিজাত সব পোকার কক্ষ, ব্ল্যাকজ্যাক ও জুয়ার টেবিল। সেই সঙ্গে রয়েছে ১৩০ স্লট ম্যাশিন।

উইন স্টার ক্যাসিনো (ওকলাহোমা, যুক্তরাষ্ট্র)

অত্যাধুনিক ভবনটির সামনে নান্দনিক স্থাপত্যের পৃথিবীর গোলকের ওপর ইংরেজি লেখা ‘উইন স্টার ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনো। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাসিনোটির রয়েছে ৫ লক্ষাধিক বর্গফুটের জুয়ার আসর, যা প্যারিস, বেজিং, রোম, মাদ্রিদ, লন্ডন, ভিয়েনা, কায়রো ও নিউইয়র্ক শহর উপজীব্য করে আটটি ভিন্ন ভিন্ন থিমের প্লাজায় বিভক্ত।

জুয়ার সুবিধার মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৭০০টি স্লট মেশিন, ৭৬টি গেম টেবিল ও ৪৬টি পোকার মেশিন। রয়েছে আরও ১ হাজার আসনের বিঙ্গো হল।

ফক্সউডস রিসোর্ট ক্যাসিনো (কানেক্টিকাট, যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের এই ক্যাসিনোটি বিশ্বজোড়া সমাদৃত। হলিউডের বহু সেলিব্রেটি অভিনেতা তাদের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সেখানে যান। সারা রাত জুয়া খেলার পাশাপাশি এখানে চলে জমজমাট আড্ডা।

চারপাশে সবুজের গালিচায় মোড়ানো প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বেষ্টিত এই ক্যাসিনোর গেমিং জোনটি গড়ে উঠেছে ৩ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুটের বিশাল এলাকাজুড়ে। ৪ হাজার ৭০০টি স্লট মেশিন ও ৩৮০টিরও বেশি জুয়ার টেবিলে প্রতিদিন চলে ব্ল্যাকজ্যাক, রুলেট, জুজু ইত্যাদি মজার মজার খেলা। হাজার হাজার জুয়াড়ির সমাগমে চলে কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা।

হিপোড্রোম ক্যাসিনো (লন্ডন, ইংল্যান্ড)

বিশ্ববিখ্যাত ক্যাসিনো। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার শহরের কাছেই ক্রানবার্ন স্ট্রিটে এর অবস্থান। মূলত ১৯০০ সালে নির্মিত। শুরুর দিকে ঘোড়ার দৌড় এবং রথ রেসিংয়ের একটি স্টেডিয়াম ছিল।

পরবর্তীতে বহুবার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ও কাজে এর ব্যবহার হয়েছে। জুয়ার সব ধরনের সুবিধা বিশেষ করে বিশ্বের সর্বাধিক উত্তেজনাকর সব খেলাধুলা নিয়ে ক্যাসিনোটি জুয়াড়িদের নিকট এক অনন্য পরিবেশ হাজির করেছে। ব্রিটিশ ও বিদেশিদের জন্য লন্ডনের এনএফএলসহ সব ধরনের খেলা উপভোগ করার অনুপম জায়গা এই ক্যাসিনো।