চোরাইপথে গাড়ি কেনেন কিম

৯০ দেশের সঙ্গে কালোবাজারি কারবার উত্তর কোরিয়ার * জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা চীনাদের ব্যবসা বাড়াচ্ছে * বেইজিংয়ের স্মার্টফোনে সয়লাব পিয়ংইয়ংয়ের বাজার

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত তরুণ একনায়ক যেখানেই যান সঙ্গে থাকে ঝা চকচকে কালো লিমোজিনের বহর। বুলেটপ্রুফ ‘সমীহ জাগানিয়া’ গাড়িগুলো পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি।
ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত তরুণ একনায়ক যেখানেই যান সঙ্গে থাকে ঝা চকচকে কালো লিমোজিনের বহর। বুলেটপ্রুফ ‘সমীহ জাগানিয়া’ গাড়িগুলো পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি।

সিঙ্গাপুর কিংবা ভিয়েতনামের হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক অথবা ভ্লাদিভোস্তকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ- যেখানেই যান, কার্গো বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যান কয়েক গণ্ডা রাজকীয় সেডান।

বিলাসবহুল আর বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়িগুলোতে চড়েই শহরগুলোর রাস্তায় গতির ঝড় তোলেন কিম। সঙ্গে থাকে সেই চিরচেনা দৃশ্য। কালো স্যুট-প্যান্ট-টাই আর কালো সানগ্লাস পরা ১৩ জন বডিগার্ড। দৌড়ে চলে গাড়ির পাশে পাশে। প্রশ্ন হচ্ছে, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা বিশ্ববিচ্ছিন্ন একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এমন দামি দামি গাড়ি কীভাবে সংগ্রহ করেন।

সেই জবাব খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে বিশাল চমকপ্রদ সব তথ্য। চীন, রাশিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অন্তত ৯০টি দেশের সঙ্গে কালোবাজারি কারবার চালিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। কালোবাজারের এই বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে শুধু গাড়িই নয়, বিলাসবহুল যত পণ্যের সবই কেনে দেশটির এলিট শাসকগোষ্ঠী।

জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার সুবাদে দেশটির বাজারে চীনা স্মার্টফোন ব্যবসায়ীদের এখন রমরমা।

বিশ্বের অনেক নেতারই পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জার্মানির তৈরি মার্সিডিজ বেঞ্জ। এই ব্র্যান্ডের সর্বশেষ মডেল মেবাক এস৬২ ও মেবাক এস৬০০ পুলম্যান গার্ডের প্রতিটির দাম ৫ লাখ ডলার থেকে ১৬ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ কোটি থেকে ১৩ কোটি টাকার সমান)। এই মডেলেরও বেশ কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করছেন কিম।

২০০৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অনুরোধে উত্তর কোরিয়ার কাছে গাড়িসহ নানা বিলাসী পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করে জাতিসংঘ। সেই থেকে প্রায় এক যুগ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশটির এলিট শ্রেণির বিলাসবহুল জীবন থেমে নেই। ঘরে ঘরে ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে দামি গাড়িসহ বিলাসী নানা পণ্য।

এর জন্য ব্যবহার হয় বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত কালোবাজারের বিশাল ও জটিল নেটওয়ার্ক। মূলত উৎপাদনকারী দেশ থেকে সাগরপথে অনেকটা দুনিয়া ঘুরে অবশেষে কোরীয় উপকূলে পৌঁছে গাড়িগুলো। এজন্য গভীর সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ ও একাধিক বন্দর ব্যবহার করে চোরাচালানকারীরা।

কিন্তু স্মার্টফোন ও অন্যান্য পণ্যের জন্য এতটা কষ্ট করতে হয় না তাদের। উত্তর কোরিয়ায় বসবাসকারী চীনা ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

লিমোজিন, মার্সিডিজ বেঞ্জ, সেডান ও রোলস রয়েসের অসংখ্য চালান কীভাবে ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশটিতে আনা হয়- কয়েক বছর ধরে সেটাই বের করার চেষ্টা করেছে মার্কিন সামরিক গবেষণাকেন্দ্র দ্য সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ ও মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

মঙ্গলবার প্রকাশিত তাদের পৃথক পৃথক রিপোর্টে উঠে এসেছে কালোবাজার ও চোরাচালানের বিশাল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত। রিপোর্ট মতে, গাড়িগুলোর যাত্রা শুরু হয় নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দর থেকে।

২০১৮ সালের ১৪ জুন সর্বশেষ দুটি মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি চালান ট্রাকে করে এনে বন্দরের জাহাজে তুলে দেয়া হয়। প্রায় ৪১ দিনের সমুদ্রযাত্রার পর জাহাজটি চীনের ডিলান বন্দরে এসে পৌঁছায়। ডিলান বন্দর থেকে সেটা আরেকটি জাহাজে করে চলে যায় জাপানের ওসাকায়।

সেখান থেকে আরেক জাহাজে করে আসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দরে। বুসান থেকে যায় রাশিয়ার নাখোদকা বন্দরে। অবশেষ আরও প্রায় পাঁচ মাসের যাত্রা শেষে অবশেষে ৩১ জানুয়ারি পিয়ংইয়ংয়ে কিমের হাতে আসে চালানটি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×