ব্রাজিলের ১৩০ সৈকতে রহস্যময় তেল

মরছে মাছ-কচ্ছপ কাঁকড়া, প্রেসিডেন্ট বলেছেন চক্রান্ত

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশ দূষণের থাবা পিছু ছাড়ছে না ব্রাজিলের। একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম চিরহরিৎ বন আমাজন পুড়ছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের ১৩০টি সমুদ্রসৈকতে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় তেল। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ দূষণের থাবা পিছু ছাড়ছে না ব্রাজিলের। একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম চিরহরিৎ বন আমাজন পুড়ছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের ১৩০টি সমুদ্রসৈকতে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় তেল। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।

মারা যাচ্ছে কচ্ছপ, কাঁকড়া, মাছ, পাখিসহ সামুদ্রিক বহু প্রজাতি। কে বা কারা এই তেল ফেলে গেছে তার কোনো হদিস এখনও মেলেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা খুঁজে বের করতে বেশ ঘাম ঝরাচ্ছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো একে বড় ধরনের চক্রান্ত হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

এএফপি জানায়, সৈকতে ছড়ানো তেল প্রথম নজরে আসে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে। সে সময় আটটি রাজ্যের ১০৫টি স্থানে ১৫শ’ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তেল পাওয়া যায়। পরে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৯টি রাজ্যের সবক’টিতে ১৩০টি সমুদ্রসৈকতে ২ হাজার কিলোমিটারজুড়ে তেল পাওয়া যায়।

এতে জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতগুলোসহ প্রাণীরাও দূষণের শিকার হয়েছে। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো স্যালেস বলেন, এসব তেল অপসারণই সরকার প্রথমে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সৈকত থেকে ইতিমধ্যে ১০০ টনের বেশি তেল সরানো হয়েছে। ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থা আইবামা জানিয়েছে, ওই তেল পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এটি ব্রাজিলে উৎপন্ন হয় না এমন এক ধরনের তেল। মঙ্গলবার বলসোনারো বলেন, আমরা তেলের কনটেইনারে কোনো ধারাবাহিক ছিদ্র পাইনি।

যদি এটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষের তেল ট্যাংকার হতো, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে ছিদ্র দিয়ে তেল বের হয়ে যেত। এটা বড় ধরনের একটা চক্রান্ত, সুস্পষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ওই তেল সমুদ্রকে দূষিত করেছে।

ফেডারাল ইউনিভার্সিটি অব রিও গ্র্যান্ড ডো নর্টের সমুদ্র গবেষক মারিয়া ক্রিস্টিনা আরাউজো এএফপিকে বলেন, উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান বড় ক্ষতির মুখে।

ম্যানগ্রোভ, পাথুরে খিলান এবং প্রবাল প্রাচীর ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিটি অপূরণীয় হতে পারে এবং বাস্তুসংস্থানগুলো পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এর কারণে ইতিমধ্যে পর্যটকরা ওইসব সৈকতে যেতে চাইছেন না।

সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় কাজ করা গোষ্ঠী তামার জানায়, সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা একটি খারাপ পরিবেশগত বিপর্যয়। ব্রাজিলের পুলিশ একে ‘পরিবেশগত অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিবেশ সংস্থা আইবামার সমন্বয়ক ফারনান্দা পিরিল্লো বলেন, ‘আমরা ব্রাজিলে এমন দুর্ঘটনা কখনও দেখিনি... ।

এই প্রথম আমরা এতগুলো রাজ্যে কোনো একটা অজ্ঞাত স্থান থেকে তেল ছড়ানোর মতো এরকম দুর্ঘটনা দেখতে পাচ্ছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×