ইউরোপে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে রাশিয়ার গুপ্তচর বাহিনী

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমে মলদোভায় নাশকতা চালানো হয়। এরপর বুলগেরিয়ায় বিষক্রিয়ায় হত্যা করা হয় এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে। তারপর মন্টিনিগ্রোয় ব্যর্থ অভ্যুত্থান। গত বছর ব্রিটেনে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট গ্যাস প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনায় রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার ছাপ দেখতে পেয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে মলদোভায় নাশকতা চালানো হয়। এরপর বুলগেরিয়ায় বিষক্রিয়ায় হত্যা করা হয় এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে। তারপর মন্টিনিগ্রোয় ব্যর্থ অভ্যুত্থান। গত বছর ব্রিটেনে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট গ্যাস প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনায় রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার ছাপ দেখতে পেয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

এ অভিযানগুলো পরিচালনা করছে রাশিয়ার গুপ্তচর বাহিনীর একটি এলিট ইউনিট, যারা নাশকতা, গুপ্তহত্যা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশেষ দক্ষ। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

অত্যন্ত গোপনীয় এ বিশেষ ইউনিটের নাম ‘ইউনিট ২৯১৫৫’। প্রায় এক দশক ধরে এটি কার্যকর চালিয়ে এলেও সম্প্রতি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর অস্তিত্ব জানতে পারে। চারটি ইউরোপীয় দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এই ইউনিট কিভাবে, কখন ও কোথায় হামলা চালাবে, তা জানা সম্ভব নয়। এ ইউনিটের কার্যক্রম থেকে অনুমেয় যে, কতটা সক্রিয়তা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট

ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমের বিরুদ্ধে লড়ছেন। একে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’- অপপ্রচার, হ্যাকিং ও মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং প্রকাশ্যে সামরিক চ্যালেঞ্জ। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পিটার জক বলেন, আমার মনে হয়, আমরা ভুলে গেছি রাশিয়ানরা কতটা নৃশংস হতে পারে।

মস্কোর পূর্বাঞ্চলীয় ১৬১তম স্পেশাল পারপোস স্পেশালিস্ট ট্রেইনিং সেন্টার থেকে এই ইউনিটের কার্যক্রম চালানো হয়। এটি নিয়ন্ত্রিত হয় রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ থেকে। এর সদস্যরা ইউরোপের দেশে দেশে ঘুরে বেড়ান। গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ইউনিটের কার্যক্রম এতটাই গোপন যে, এর অস্তিত্বের কথা জিআরইউ’র অন্য কর্মকর্তাদেরও অজানা।

২০১৬ সালে মন্টেনিগ্রোয় ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গেই প্রথম রাশিয়ান সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ওই অভ্যুত্থান চেষ্টায় ইউনিটটির দুই কর্মকর্তা মন্টেনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা ও পার্লামেন্ট ভবন দখলে নেয়ার পরিকল্পনা করে।

২০১৮ সালের মার্চে স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার পর সব পরিষ্কার হয়। ওই বিষপ্রয়োগের ঘটনার এক বছর আগে, ইউনিট ২৯১৫৫-এর তিন সদস্য ব্রিটেন সফর করেন। তাদের একজন মিশকিন, যাকে স্ক্রিপালকে হত্যাচেষ্টায় দোষী করা হয়েছে। অপরজন সের্গেই পাভলভ নামে ছদ্মনাম নেন।

সের্গেই ফেদোটভ নামে তৃতীয় আরেক গুপ্তচর আড়াল থেকে পুরো অভিযান তত্ত্বাবধান করেছিলেন। পরে ইউরোপিয়ান কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, এই তিনজনের অন্তত দু’জন এমন একটি দলের সদস্য যারা বুলগেরিয়ার সমরাস্ত্র ব্যবসায়ী এমিলিয়ান গেভরেভকে বিষপ্রয়োগে হত্যার চেষ্টা চালায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×