‘মুখবন্ধ’ বন্ডে কয়েদি ছাড়ছে ভারত

কাশ্মীরে কথা বললেই জেল, ৫০ হাজার জরিমানা

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মীরে সরকারের বিরুদ্ধে মুখবন্ধে কারাগারে জোর করে মুচলেকায় সই নিয়ে কয়েদি ছাড়ছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীরের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সব রাজবন্দির এভাবে বাকস্বাধীনতা খর্ব করছে বিজেপি সরকার। কারাগার থেকে মুক্তির বিনিময়ে তাদের কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়ে মুখবন্ধ রাখতে হবে। ওই মুচলেকায় উল্লিখিত শর্ত অনুসারে মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে বাকস্বাধীনতা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে বন্দিরা। ওই বন্ডের শর্তানুসারে আগেই ১০ হাজার রুপি জমা দিতে হবে। আর শর্ত ভাঙলে অর্থাৎ কাশ্মীর ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করলে বা সভা-সমাবেশে এ নিয়ে বক্তব্য দিলে বাকি ৪০ হাজার রুপি জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি জেলেও যেতে হতে পারে। মুখ খুললেই কারাগারে যেতে হবে সুরটা চড়িয়ে দিয়েছেন শাসকদল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। রোববার শ্রীনগরে দলীয় যুব শাখার সম্মেলনে তিনি বলেন, কাশ্মীরে সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টিকারীদের কারাগারে পাঠানো হবে।

সোমবার দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সম্প্রতি দুই নারী বন্দিকে মুক্তি দিয়ে এমন মুচলেকায় সই করিয়ে নিয়েছে কাশ্মীর প্রশাসন। কয়েদিদের ‘সেকশন-১০৭’ নামের একটি বন্ডে স্বাক্ষর নিচ্ছে তারা। মূলত ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কয়েদিদের মুক্তির বিনিময়ে এ বন্ডে স্বাক্ষর নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেক্ষেত্রে শান্তির পথে অন্তরায় হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়। এর লঙ্ঘন হলে বন্দির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। কাশ্মীর প্রশাসন এটিকেই নতুন রূপে প্রয়োগ করছে। সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুতে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য, বিবৃতি, জনসম্মুখে বক্তব্য বা বিক্ষোভে অংশ নেয়া বন্ধে বন্দিদের মুচলেকায় সই নেয়া হচ্ছে। কাশ্মীরের সম্প্রতি ঘটনা হল, সেখানের বিশেষ মর্যাদা দেয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করা। গত ৫ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিতর্কিত এ সিদ্ধান্তে কেউ যাতে প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য আগেই কাশ্মীরের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ছয় সহস্রাধিক রাজনীতিককে বন্দি করা হয়। দীর্ঘ দুই মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ভারত। বিনিময়ে কয়েদিদের কাছ থেকে জোর করে মুচলেকায় স্বাক্ষর নিচ্ছে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ। ওই বন্ডের শর্তে প্রথমে ১০ হাজার রুপি জমা দিতে হচ্ছে। আর বন্ডে উল্লিখিত শর্ত ভাঙলে অর্থাৎ কাশ্মীর ইস্যুতে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলে ৪০ হাজার রুপি জরিমানা গুনতে হবে। পাশাপাশি জেলেও যেতে হতে পারে। সম্প্রতি ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও তার ছেলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে মুক্তি দিয়েছে কাশ্মীর প্রশাসন। এছাড়া পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) বিধায়ক ইয়ারমির, কংগ্রেসের সোয়াইব লোন, ন্যাশনাল কনফারেন্সের কর্মী নূর মোহাম্মদকেও মুক্তি দেয়া হয়েছে। সবার কাছ থেকেই এ ধরনের বন্ডে স্বাক্ষর নিয়েছে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ। দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ওই বন্ডে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করায় তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে রাম মাধব বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের জন্য এখন কেবল দুটি পথ থাকবে- শান্তি ও উন্নয়ন। ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীর শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এর মাঝখানে যে আসবে তাকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। তাদের শায়েস্তা করতে ভারতে অনেক কারাগার রয়েছে।’ সরকার কাশ্মীরের কয়েক লাখ পরিবারের জন্য অর্থাৎ সাধারণ কাশ্মীরিদের জন্য ভাবছে দাবি করেন রাম মাধব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×