‘হাজার বছর’ আয়ুর আশীর্বাদে মসনদে জাপানের সম্রাট

রাজার অভিষেকে ১৮০ দেশের ‘রাজা’ * প্রায় ৫ লাখ অপরাধীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা সরকারের

  সালমান রিয়াজ ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত রাজপ্রাসাদে মঙ্গলবার বেলা ঠিক ১টায় বেজে ওঠে ঢোল। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্রাট নারুহিতোর জমকালো অভিষেক অনুষ্ঠান। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং বিদেশি অতিথিরা মূল অনুষ্ঠানকক্ষে নিজ নিজ আসনে বসেন। শুরু হয় সম্রাটের জন্য অপেক্ষা। সম্রাট নারুহিতো রাজপ্রসাদ ‘হল অব পাইনে’ ‘তাকামিকুরা’ সিংহাসনের দিকে এগিয়ে আসতেই ঢোলের তালে তালে সবার মুখে তিনবার উচ্চারিত হয় ‘বানজাই’ (দশ হাজার বছর বেঁচে থাকুক সম্রাট)। অর্থাৎ দশ হাজার বছর আয়ুর আশীর্বাদ নিয়ে এদিন সিংহাসনে আরোহণ করেন ৫৯ বছর বয়সী নারুহিতো। জাপানের ১২৬তম সম্রাটকে এভাবে দীর্ঘায়ু কামনা করেন বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রনেতা ও প্রতিনিধিরা। খবর জাপান টাইমস ও এএফপির।

এদিন জাপানি সাম্রাজ্যের ইতিহাসে নতুন ‘রেইওয়া’ যুগের সূচনা হল। রেইওয়া অর্থ ‘শৃঙ্খলা ও ঐকতান’। ‘হেইসেই’ যুগের সম্রাট আকিহিতো ৮৫ বছর বয়সে গত ৩০ এপ্রিল স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করেন। পরদিন ১ মে তার ছেলে নারুহিতো প্রতীকী আনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্রাটের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। জাপানি রীতি অনুযায়ী, নতুন সম্রাটের অভিষেকের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আচার পালন করতে হয়। এ কারণেই পাঁচ মাস পর হল মূল আনুষ্ঠানিকতা।

‘সেইদেন-মাৎসু-নো মা’ নামে মূল অনুষ্ঠানকক্ষটি রাষ্ট্রীয় কক্ষ নামে পরিচিত। সেখানে ষড়ভুজ আকারের দুটি সিংহাসন। সম্রাটের আসনের উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। পাশে কিছুটা নিচু সিংহাসনটি সম্রাজ্ঞী মাসাকোর। রাজকীয় সিল্কের পোশাক পরেছিলেন সম্রাট। সম্রাজ্ঞী মাসাকো পরেছিলেন ১২ স্তরের রাজকীয় কিমোনো। প্রধানমন্ত্রী আবে সম্রাটের সামনে নত মস্তকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সম্রাট সিংহাসন আরোহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ভাষণ দেন। ভাষণের শুরুতে তিনি পিতা আকিহিতোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, পিতার দেখানো পথ ধরে তিনি এগিয়ে যাবেন। নারুহিতো বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি, বিধান অনুযায়ী দেশের এবং জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করব। আমার চিন্তা-চেতনায় সবসময় জনগণের সুখ এবং বিশ্ব শান্তির কামনা থাকবে।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত ভাষণে সম্রাটকে অভিনন্দন জানান। আবে বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্র ও জনতার ঐক্যের প্রতীক সম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জাপানের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করে সম্রাটের দীর্ঘ জীবন কামনা করে তিনবার উচ্চকণ্ঠে ‘বানজাই’ ধ্বনি দেন। অতিথিরা তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এর ঠিক পরপর কামানের ২১টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানের প্রথম অংশ। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে লঘু অপরাধে আটক প্রায় ৫ লাখ আসামিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে আবে সরকার। অনুষ্ঠানে হাজার দুয়েক অতিথির মধ্যে স্ত্রী রাশিদা খানমকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলিয়াম আলেক্সান্ডার, স্পেনের রাজা ফিলিপ, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস ও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে। সন্ধ্যার রাজকীয় ভোজসভায় অংশ নেন জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং বিদেশি অতিথিরা। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে মোটরগাড়ি শোভাযাত্রা ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×