জাপানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে উ. কোরিয়ার পক্ষে দ. কোরিয়া

  যুগান্তর ডেস্ক ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তর কোরিয়া-জাপান সম্পর্ক মোটেই ভালো যাচ্ছে না। পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় টোকিওর তীর্যক সমালোচনা। ফলে তিক্ততা ক্রমেই বাড়ছে। এই মুহূর্তে যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও বাধতে কতক্ষণ। উত্তেজনা বাড়ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কও। যদি জাপানের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ লেগেই যায়, তাহলে ‘সহোদর ভাই’ দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ ভাইয়ের পাশেই থাকবে। সাম্প্রতিক এক জরিপ সে কথাই বলছে। জরিপ চালিয়েছেন সিউলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কোরিয়া ইনস্টিটিউচ ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন’র গবেষক লি স্যাং সিন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ঐতিহ্য নিয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সম্পর্কের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ১১তম পিস ফোরাম উপলক্ষে বুধবার জরিপ প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।

জরিপের ফলাফল অনুসারে, এই মুহূর্তে জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৫.৫ শতাংশ অধিবাসীই প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়াবে। মিত্র দেশ হলেও জাপানকে সমর্থন করবে মাত্র ১৫.১ শতাংশ। টোকিও নাকি পিয়ংইয়ংকে সমর্থন করবে সে ব্যাপারে এখনই মত দেননি ৩৯.৪ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপে উত্তরদাতারা দক্ষিণ কোরিয়ার ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছে। প্রায় ৫৩ শতাংশই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক এবং ৪৩ শতাংশ রক্ষণশীল বলে পরিচিত বিরোধী দল লিবার্টি কোরিয়া পার্টির সমর্থক। কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন ৪১ শতাংশ নাগরিক উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার অর্ধেকের বেশি (৬১ শতাংশ) জনগণই জাপানকে সামরিক হুমকি বলে মনে করছে। এতদিন সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি সেটা খারাপ হতে থাকে। জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর বিশেষ রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাপান। প্রতিক্রিয়ায় জাপানি পণ্য বয়কট করছেন ক্ষুব্ধ কোরিয়ানরা। পোশাক থেকে শুরু করে গৃহস্থালি জিনিসপত্র কিনছেন ঘরোয়া প্রতিষ্ঠান থেকে। অপরদিকে জাপানে ‘অবিশ্বস্ত’ কোরিয়ানদের নিয়ে পুরনো ধ্যানধারণা ফের জেগে উঠতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী কোরিয়া এখনও পুরনো ইতিহাস পেছনে রাখতে পারছে না, এই অনুযোগ এখন জাপানের কূটনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদেরও।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া- উভয়ই বেশ উদার গণতন্ত্রী রাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র। কিন্তু দুই দেশ কিছুতেই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিবাদ শুরু হয়েছে গত বছরের অক্টোবর থেকে। ওই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্ট একটি রায় প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেসব জাপানি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ানদের বলপূর্বক শ্রমে বাধ্য করেছিল, তারা এখন ভুক্তভোগী বিবাদীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

জাপানের বক্তব্য, এ ধরনের সব দায়দাবি ১৯৬৫ সালে করা চুক্তির মাধ্যমে ফয়সালা হয়ে গেছে। কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্টের ওই রায়ের পর জাপান দাবি করেছে, কোরিয়া সরকারকে এই রায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিচার ব্যবস্থায় সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সুপ্রিমকোর্টের ওই রায়ের ফলে দায়ী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার কৌঁসুলিরা। এর পরপরই জাপান জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি রাসায়নিক রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত