অমুসলিমদের নাগরিকত্বে ফের বিল আনছে বিজেপি

লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনে ফের পার্লামেন্টে বিল তুলতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কার্যত আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া অমুসলিম শরণার্থীদের বৈধতা দিতেই এ সংশোধনী আনা হচ্ছে।

আজ (সোমবার) থেকে শুরু হতে যাওয়া শীতকালীন অধিবেশনের কর্মসূচিতেই বিতর্কিত এ বিলের উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আগেও একবার পেশ হয়েছিল। কিন্তু আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তখন সেটি পাস করানো যায়নি।

ওই পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ফের পার্লামেন্টে উঠতে যাচ্ছে বিলটি।

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ১৩ ডিসেম্বর শীতকালীন অধিবেশন শেষ হবে। নাগরিকত্ব বিলের পাশাপাশি আরও ৩৪টি বিল আনা হচ্ছে পার্লামেন্টে। নাগরিকত্ব বিলটি পাস হলে ভারতের নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

এর আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন ও পার্সি ধর্মাবলম্বী, যারা কথিত ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতে গিয়ে স্থায়ী হয়েছে, তারা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে। প্রথম দফায় এ বিলটি পাসের উদ্যোগ নেয়া হলে এর বিরুদ্ধে আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

প্রতিবাদে নেমেছিল অসমিয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো। রাজ্যেগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। এবারও বিল পেশের খবর বেরোতেই আসামের নানা জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

যেসব সংগঠন ইতিমধ্যে রাজপথে নেমেছে, তার মধ্যে অন্যতম কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব রাতুল হোসেইন বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধানের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু এ বিলে সেটাকেই ধ্বংস করে হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে।

এদেশের নাগরিকত্ব পেতে ধর্ম কোনো ভিত্তি হতে পারে না, আর এই বিলে সেটাই করা হচ্ছে।’ রাতুল হোসেইন বলেন, ‘আসামের নাগরিক তালিকায় (এনআরসি) যে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে বেছে বেছে মুসলমান ছাড়া অন্যদের নাগরিকত্ব দিতেই এ বিল আনা হচ্ছে।’

বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনা হলে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেয়ার যে শর্ত আসাম চুক্তিতে আছে, সেটা লঙ্ঘিত হবে।

শিলচরের সাবেক এমপি ও জাতীয় মহিলা কংগ্রেসের প্রধান সুস্মিতা দেব বিবিসিকে বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার নেতারা এখন বিজেপির আনা এ বিলের বিরোধিতা করছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানকার মানুষের ভোটে তো বিজেপি জিতেছে। তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রেও লেখা ছিল, এই বিল তারা আনবে। সেটা তখন দেখেনি আসামের মানুষ? তাদের বেশিরভাগই অসমিয়া হিন্দু।

তবে এই বিলে আসামের বাঙালিদের কোনো লাভ হবে না।’ সুস্মিতা বলেন, আমরা চাই ধর্মনিরপেক্ষভাবে সব মানুষকে নাগরিকত্বের অধিকার দিক সরকার।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দাশ বিবিসিকে জানান, যেভাবে ৩৭০ ধারা বিলোপের বিল পাস হয়েছে লোকসভা আর রাজ্যসভায়, সেভাবেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলও পাস হয়ে যাবে। এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

গতবারের প্রতিবাদের কথা মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান বিজেপি নেতা রঞ্জিত দাশ।

ঘটনাপ্রবাহ : আসামে বাঙালি সংকট

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত