রোহিঙ্গা নিপীড়নের নতুন ভিডিও প্রকাশ

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

গণহত্যার মতো নিকৃষ্টতম অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুটি মামলার কয়েক দিন পর রোববার এ ভিডিও জনসম্মুখে আনল কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি।

তাতে দেখা গেছে, শত শত রোহিঙ্গাকে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে দেশটির সেনাসদস্যরা। মিয়ানমারের সেনারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে এ নির্যাতন চালাচ্ছে। সেনাসদস্যরা দলগতভাবে একজন একজন করে রোহিঙ্গা মুসলিমকে নানা কৌশলে নির্যাতন করছে। কেউ বুট জুতা দিয়ে লাথি মেরে ফেলে দিচ্ছে। কেউ বন্দুক দিয়ে শরীরের যত্রতত্র পেটাচ্ছে।

একজন মুখে লাথি মেরে ক্লান্ত হলে অপরজন এসে পুনরায় শুরু করছে। বাকি রোহিঙ্গারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। সাঈদ নামে এক রোহিঙ্গা তরুণ আলজাজিরাকে বলে, ‘একজন সৈন্য আমার মাথা থেকে শুরু করে পুরো শরীরে লাথি মারা শুরু করে। তারপর সে বলে, তোমাদের সব মুসলিমকে মেরে ফেলা হবে। আমরা অপরাজেয়।’

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘পানিতে পড়ে থাকা সন্তানদের লাশ তুলে আনছে তাদের পরিবারের মানুষজন।’ পরিবারগুলো জানাচ্ছে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে অনেকের শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। রাজিমা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘তারা আমাদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারপর আমাদেরকে আটক করে একত্র করে রাখে। আমাদের মুখ এমন দিকে ঘুরিয়ে রাখা হয় যাতে আমরা আমাদের বাড়ি পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য না দেখতে পারি, আমাদের বাড়িঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারি।’

মিয়ানমার সেনাদের হাতে ধর্ষণের স্বীকার এক নারী বলেন, ‘তারা আমাকে ধরে একটা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে নির্মম নির্যাতন করে তারা। পাঁচ মাস পর আমি জানতে পারি আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমার পেটে বাচ্চা থাকলেও আমার কিছুই করার ছিল না।’ নির্যাতনের স্বীকার অপর এক নারী বলেন, আটক মানুষদের মধ্যে পাঁচজনকে তারা (সেনাসদস্যরা) আলাদা একটি ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। আমিও ছিলাম তাদের একজন। ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর অন্ধের মতো তারা যা করে আমি তা বলতে পারছি না।’

এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ওই নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। গণহত্যার উদ্দেশ্যেই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিধন অভিযান চালায়। জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ ছাড়াও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার নানা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে।

কিন্তু এখনও তা অস্বীকার করেই চলেছে দেশটি। রক্তাক্ত সামরিক অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারা এখনও নিজেরে জন্মস্থানে ফিরতে পারেনি।

এর দু’দিন আগে রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে ৩০ জনের বেশি সীমান্তরক্ষীর প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার জেরে রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংস সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। বলছে, রাখাইনে সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×