ইউরোপের বৃহত্তম জাদুঘরে বৃহত্তর চুরি

জার্মানির গ্রিন ভল্ট থেকে ‘শত কোটি ইউরো’র অলংকার নিয়ে উধাও চোর

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপের বৃহত্তম জাদুঘর থেকে শত কোটি ইউরো মূল্যের অলংকার ও ধনদৌলত চুরি হয়েছে। জার্মানির অনন্য সব নকশার অলংকার সংগ্রহশালা গ্রিন ভল্ট থেকে ১৮ শতকের অমূল্য রত্ন চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার জার্মান পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। এএফপি বলছে, ড্রেসডেন শহরের রয়্যাল প্যালেসে অবস্থিত গ্রিন ভল্ট জাদুঘর থেকে কয়েকশ’ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম চুরি করা হয়েছে। এ ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চুরি বলে আখ্যায়িত করেছে জার্মানির ট্যাবলয়েড বিল্ড ডেইলি।

সোমবার ভোরের দিকে চোররা জাদুঘরেরে পাশের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে আগুন লাগায়। এতে জাদুঘরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে।

পরে ভবনের জানালার সুরক্ষিত লোহার রড ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুই চোর। তারা ১০টির মধ্যে তিন সেট ডায়মন্ডের অলংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ড্রেসডেন শিল্প সংগ্রহশালার পরিচালক ম্যারিওন অ্যাকারম্যান।

চুরি হওয়া অলংকারের মধ্যে আঠারো শতকের স্যাক্সোনি যুগের রোমান শাসক আগাস্টাস দ্য স্ট্রংয়ের সংগৃহীত নিখুঁত কারুকাজের ডায়মন্ডের অলংকারও রয়েছে।

তবে ধারণার চেয়ে কম খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাকারম্যান। তিনি বলেন, ‘চোররা সবকিছু নিতে পারেনি। কিন্তু চুরি যাওয়া এসব অমূল্য অলংকারের শিল্প-ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে।

চুরি হওয়া সম্পদগুলোর নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি আমরা। কারণ এগুলো অমূল্য রত্ন।’ ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জাদুঘরের ভেতরে ঢুকে দুই চোর কুড়াল দিয়ে শোকেজের কাচ ভেঙে অলংকার বের করে।

পরে একজন অডি এ৬ মডেলের একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। অপরজন দৌড়ে পালায়। পুলিশ জানায়, চোরের ব্যবহৃত গাড়িটি পরে আগুন লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজনকে ধরতে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিল্ড ডেইলি বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চুরি এটি।

ড্রেসডেন শিল্প সংগ্রহশালার ১২টি জাদুঘরের একটি গ্রিন ভল্ট। এ জাদুঘরে ৪ হাজারেরও বেশি অলংকার ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মভর্তি দশটি কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে জাদুঘরটি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি ঐতিহাসিক অংশ।

অন্যটি নতুন অঞ্চল। চোররা ঐতিহাসিক অংশকে টার্গেট করেছিল। সেখানে জাদুঘরের মোট সংগ্রহের তিন ভাগের এক ভাগ রয়েছে। জাদুঘরের আইভরি কক্ষ, সিলভার গিল্ট কক্ষ এবং কেন্দ্রীয় ‘হল অব ট্রেসারস’সহ ৯টি কক্ষে প্রদশর্নীর আয়োজন চলছিল।

রুশ জার পিটার প্রথমের দেয়া উপহার ৫৪৭ দশমিক ৭১ ক্যারেটের নীলকান্তমণি, পান্না দিয়ে নোঙরখচিত ৬৩ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার আয়তনের অলংকার সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। ওই জাদুঘরের আরেকটি মূল্যবান অলংকার হল ‘গ্রিন ডায়মন্ড’।

বর্তমানে এটি নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টকে প্রদর্শনীর জন্য ধার দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাদুঘর ভবনটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পরে তা মেরামত করে ২০০৬ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

১৭২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পর্যটকদের আকর্ষণ ছিল এ জাদুঘর। গ্রিন ভল্ট জাদুঘরের পরিচালক ডায়ার্ক সায়ানড্রাম বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা প্রায় ১০০ অলংকারের ওপর টার্গেট ছিল দুর্বৃত্তদের। এর আগে ২০১৭ সালে বার্লিনের বোডে জাদুঘর থেকে ১০০ কেজি ওজনের ২৪ ক্যারেট সোনার একটি মুদ্রা চুরি হয়েছিল।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত