উত্তাল হংকং: পুলিশি অনুমতিতে প্রথম বিক্ষোভ
jugantor
উত্তাল হংকং: পুলিশি অনুমতিতে প্রথম বিক্ষোভ
বিক্ষোভের অর্ধবার্ষিকী পূর্তিতে রাজপথে লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী * বিক্ষোভে হংকংবাসীর সমর্থন আছে কিনা- তা যাছাইয়ে সরকারের চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্ধবার্ষিকী পূর্ণ করল হংকং বিক্ষোভ। বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্তিতে রোববার শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয় লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী।
ছবি: সংগৃহীত

অর্ধবার্ষিকী পূর্ণ করল হংকং বিক্ষোভ। বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্তিতে রোববার শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয় লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী।

গত জুনে শুরু হওয়ার পর পুলিশের অনুমতি পাওয়া এটাই প্রথম বিক্ষোভ। প্রায় ৮ লাখ বিক্ষোভকারী অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে এদিন দলে দলে রাজপথে নেমে আসে আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির জনগণ। কানায় কানায় ভরে যায় শহরের রাস্তাঘাট এবং ওলিগলি।

বিক্ষোভকারীরা শহরের চীনপন্থী নেতাকে হুশিয়ারি দিয়েছে, তাদের দাবি পূরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের অবসানের এটাই সরকারের ‘শেষ সুযোগ’।

বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গা পুলিশের ভূমিকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবাধ নির্বাচনের আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবির ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। খবর বিবিসি ও এএফপির।

এর আগে গত ছয়মাস ধরে হংকংয়ে বরাবরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে সহিংস বিক্ষোভ চলে এসেছে। বিক্ষোভের আয়োজক দলটির সমাবেশ করার অনুরোধ কর্তৃপক্ষ কখনও কানে তোলেনি।

হংকংয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থীদের জয়ের পর সমাবেশ করার এ সবুজসংকেত পায় হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বৃহত্তম দল সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট। ২৪ নভেম্বরে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ আসন জিতে নেয় গণতন্ত্রপন্থীরা।

এর মাধ্যমে ‘বিক্ষোভে বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন নেই’- সরকারের এ দাবি মাঠে মারা যায়।

এর আগে শনিবার হংকং সরকার এক বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং পরমত সহিঞ্চুতা দেখানোসহ খোলা মনে জনগণের কথা শোনা হবে বলেও জানায়।

সমাবেশের অনুমতি দিয়ে আরেকবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি হংকংবাসীর সমর্থন যাচাই করতে চেয়েছিল অঞ্চলটির চীনপন্থী সরকার। সমাবেশে হংকংয়ের নাগরিকদের বিপুল অংশগ্রহণ সরকারের সেই চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

রোববারের সমাবেশে হংকংয়ের রাস্তা ভেসে গেছে প্রতিবাদী কণ্ঠের জনসমুদ্রে। কানায় কানায় পূর্ণ হয় জনপদ। ‘স্বাধীনতার জন্য লড়াই’, ‘হংকংয়ের পাশে থাকুন’ স্লোগানে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কের দিকে পদযাত্রা করেছে যুব, বৃদ্ধসহ সব ধরনের মানুষ। হংকং পুলিশ বলেছে, পদযাত্রা শুরুর আগে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি অস্ত্র। পুলিশের দাবি, মিছিলে যোগ দিয়ে কেউ যাতে অশান্তি না ছড়াতে পারে সেজন্যই চালানো হয়েছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান। সমাবেশের আয়োজকরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণের জন্য এটাই সরকারের শেষ সুযোগ।

এসব দাবিদাওয়ার মধ্যে আছে, হংকংয়ের বিক্ষোভে পুলিশের শক্তি ব্যবহারের বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেফতারকৃতদের ক্ষমা এবং অবাধ নির্বাচন।

বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগ দিয়ে মূলত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম ও বেইজিংয়ের শাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

উত্তাল হংকং: পুলিশি অনুমতিতে প্রথম বিক্ষোভ

বিক্ষোভের অর্ধবার্ষিকী পূর্তিতে রাজপথে লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী * বিক্ষোভে হংকংবাসীর সমর্থন আছে কিনা- তা যাছাইয়ে সরকারের চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অর্ধবার্ষিকী পূর্ণ করল হংকং বিক্ষোভ। বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্তিতে রোববার শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয় লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী।
ছবি: সংগৃহীত

অর্ধবার্ষিকী পূর্ণ করল হংকং বিক্ষোভ। বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্তিতে রোববার শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয় লাখ লাখ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী।

গত জুনে শুরু হওয়ার পর পুলিশের অনুমতি পাওয়া এটাই প্রথম বিক্ষোভ। প্রায় ৮ লাখ বিক্ষোভকারী অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে এদিন দলে দলে রাজপথে নেমে আসে আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির জনগণ। কানায় কানায় ভরে যায় শহরের রাস্তাঘাট এবং ওলিগলি।

বিক্ষোভকারীরা শহরের চীনপন্থী নেতাকে হুশিয়ারি দিয়েছে, তাদের দাবি পূরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের অবসানের এটাই সরকারের ‘শেষ সুযোগ’।

বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গা পুলিশের ভূমিকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবাধ নির্বাচনের আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবির ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। খবর বিবিসি ও এএফপির।

এর আগে গত ছয়মাস ধরে হংকংয়ে বরাবরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে সহিংস বিক্ষোভ চলে এসেছে। বিক্ষোভের আয়োজক দলটির সমাবেশ করার অনুরোধ কর্তৃপক্ষ কখনও কানে তোলেনি।

হংকংয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থীদের জয়ের পর সমাবেশ করার এ সবুজসংকেত পায় হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বৃহত্তম দল সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট। ২৪ নভেম্বরে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ আসন জিতে নেয় গণতন্ত্রপন্থীরা।

এর মাধ্যমে ‘বিক্ষোভে বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন নেই’- সরকারের এ দাবি মাঠে মারা যায়।

এর আগে শনিবার হংকং সরকার এক বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং পরমত সহিঞ্চুতা দেখানোসহ খোলা মনে জনগণের কথা শোনা হবে বলেও জানায়।

সমাবেশের অনুমতি দিয়ে আরেকবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি হংকংবাসীর সমর্থন যাচাই করতে চেয়েছিল অঞ্চলটির চীনপন্থী সরকার। সমাবেশে হংকংয়ের নাগরিকদের বিপুল অংশগ্রহণ সরকারের সেই চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

রোববারের সমাবেশে হংকংয়ের রাস্তা ভেসে গেছে প্রতিবাদী কণ্ঠের জনসমুদ্রে। কানায় কানায় পূর্ণ হয় জনপদ। ‘স্বাধীনতার জন্য লড়াই’, ‘হংকংয়ের পাশে থাকুন’ স্লোগানে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কের দিকে পদযাত্রা করেছে যুব, বৃদ্ধসহ সব ধরনের মানুষ। হংকং পুলিশ বলেছে, পদযাত্রা শুরুর আগে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি অস্ত্র। পুলিশের দাবি, মিছিলে যোগ দিয়ে কেউ যাতে অশান্তি না ছড়াতে পারে সেজন্যই চালানো হয়েছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান। সমাবেশের আয়োজকরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণের জন্য এটাই সরকারের শেষ সুযোগ।

এসব দাবিদাওয়ার মধ্যে আছে, হংকংয়ের বিক্ষোভে পুলিশের শক্তি ব্যবহারের বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেফতারকৃতদের ক্ষমা এবং অবাধ নির্বাচন।

বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগ দিয়ে মূলত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম ও বেইজিংয়ের শাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।