ঘরে অশান্তি, আবির গলায় শান্তির মালা
jugantor
ঘরে অশান্তি, আবির গলায় শান্তির মালা
নোবেল বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ (৪৩)। মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।
ছবি: এএফপি

ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ (৪৩)। মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

কিন্তু শান্তিদূতের নিজ দেশেই নেই কোনো শান্তি। বেড়েছে জাতিগত সংঘাত। ঘরের এ অশান্তির মধ্যে এদিন শান্তির নোবেল পুরস্কার গলায় পরেন আবি। পুরস্কার গ্রহণের সময় সংক্ষিপ্ত ভাষণে জাতিগত বিভাজন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

আফ্রিকার দরিদ্র দুই দেশ ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ১৯৯৮ সালের মে মাস থেকে ২০০০ সালের জুন মাস পর্যন্ত যুদ্ধ হয়। গত বছর ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইস আফওয়েরকির সঙ্গে এক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছান আবি। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে প্রায় দেড় যুগের যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়।

আর এ চুক্তির জন্যই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান আবি আহমেদ। কিন্তু আসল বিষয়টির এখনও কোনো সমাধান হয়নি। আবির নোবেল পাওয়ার খবর প্রকাশের পর হিউম্যান রাইটস জানায়, ‘ইরিত্রিয়া সীমান্ত এখনও বন্ধ। দুই দেশ সীমানা এখনও নির্দিষ্ট করতে পারিনি। ফলে ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ নাগরিকরা।’

ব্রিটেনভিত্তিক সংস্থা রিলিজ ইরিত্রিয়ার পরিচালক সেলিম কিদানে বলেন, ‘আবির নোবেল পুরস্কার জয় আমাদের বিস্মিত করেছে। হ্যাঁ, তিনি শান্তি চুক্তি করেছেন। কিন্তু ইরিত্রিয়ার মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি।’

এদিন নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবারের ১৪ জন বিজয়ী। প্রাণীকোষ অক্সিজেনের পর্যাপ্তি বোঝে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়- এ বিষয়ে গবেষণায় চিকিৎসায় নোবেল পান তিনজন।

তারা হলেন উইলিয়াম কাইলিন জুনিয়র, স্যার পিটার র‌্যাটক্লিফ ও গ্রেগ সেমেনজা। আবি বাদে বাকিরা সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উন্নয়নের’ জন্য তিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম, আকিরা ইয়োশিনো রসায়নে নোবেল পান। ৯৭ বছর বয়সী গুডএনাফ নোবেলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে এ পুরস্কার পেলেন।

মহাবিশ্বের বিবর্তনবিষয়ক গবেষণা ও দূরবর্তী একটি গ্রহ আবিষ্কারের কৃতিত্বের জন্য পদার্থে নোবেল পুরস্কার পান কানাডীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জেমস পেবলস এবং সুইস নাগরিক মিচেল মেয়র ও ডিডিয়ের কুইলজ।

বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য এবার অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন তিন মার্কিন অর্থনীতিবিদ। নোবেল বিজয়ীরা হলেন- ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অভিজিৎ ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো ও মাইকেল ক্রেমার।

সাহিত্যে ২০১৯ সালের নোবেল পান অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার হান্ডকে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে স্থগিত থাকা পুরস্কারটি পান পোল্যান্ডের লেখক ওলগা তোকার্তুক। মঙ্গলবার হ্যান্ডকের পুরস্কার গ্রহণকে কেন্দ্র করে সম্মেলনস্থলের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে।

১৯৯৫ সালে সংঘটিত বসনিয়া গণহত্যা অস্বীকারের অভিযোগ রয়েছে হ্যান্ডকের বিরুদ্ধে। এছাড়া বলকানের কসাই হিসেবে পরিচিত সার্ব নেতা স্লোবদান মিলোসেভিচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন হ্যান্ডকে।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালে ২০০৬ সালে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন সার্বিয়ার নেতা মিলোসেভিচ।

হ্যান্ডকে সাহিত্যে নোবেল দেয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, ‘কোনো বর্ণবাদী ব্যক্তিকে নোবেল দেয়ার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই নোবেল দেয়া হয়েছে।’

১৯৯৮-১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধ চলাকালে হ্যান্ডকে লিখেছিলেন, যদি সার্বদের সমর্থন করো তাহলে আওয়াজ তোলো। তিনি দাবি করেন সারায়েভোর বসনিয়ান মুসলিমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করেছে।

ঘরে অশান্তি, আবির গলায় শান্তির মালা

নোবেল বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণ
 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ (৪৩)। মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।
ছবি: এএফপি

ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ (৪৩)। মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

কিন্তু শান্তিদূতের নিজ দেশেই নেই কোনো শান্তি। বেড়েছে জাতিগত সংঘাত। ঘরের এ অশান্তির মধ্যে এদিন শান্তির নোবেল পুরস্কার গলায় পরেন আবি। পুরস্কার গ্রহণের সময় সংক্ষিপ্ত ভাষণে জাতিগত বিভাজন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

আফ্রিকার দরিদ্র দুই দেশ ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ১৯৯৮ সালের মে মাস থেকে ২০০০ সালের জুন মাস পর্যন্ত যুদ্ধ হয়। গত বছর ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইস আফওয়েরকির সঙ্গে এক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছান আবি। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে প্রায় দেড় যুগের যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়।

আর এ চুক্তির জন্যই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান আবি আহমেদ। কিন্তু আসল বিষয়টির এখনও কোনো সমাধান হয়নি। আবির নোবেল পাওয়ার খবর প্রকাশের পর হিউম্যান রাইটস জানায়, ‘ইরিত্রিয়া সীমান্ত এখনও বন্ধ। দুই দেশ সীমানা এখনও নির্দিষ্ট করতে পারিনি। ফলে ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ নাগরিকরা।’

ব্রিটেনভিত্তিক সংস্থা রিলিজ ইরিত্রিয়ার পরিচালক সেলিম কিদানে বলেন, ‘আবির নোবেল পুরস্কার জয় আমাদের বিস্মিত করেছে। হ্যাঁ, তিনি শান্তি চুক্তি করেছেন। কিন্তু ইরিত্রিয়ার মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি।’

এদিন নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবারের ১৪ জন বিজয়ী। প্রাণীকোষ অক্সিজেনের পর্যাপ্তি বোঝে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়- এ বিষয়ে গবেষণায় চিকিৎসায় নোবেল পান তিনজন।

তারা হলেন উইলিয়াম কাইলিন জুনিয়র, স্যার পিটার র‌্যাটক্লিফ ও গ্রেগ সেমেনজা। আবি বাদে বাকিরা সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উন্নয়নের’ জন্য তিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংগাম, আকিরা ইয়োশিনো রসায়নে নোবেল পান। ৯৭ বছর বয়সী গুডএনাফ নোবেলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে এ পুরস্কার পেলেন।

মহাবিশ্বের বিবর্তনবিষয়ক গবেষণা ও দূরবর্তী একটি গ্রহ আবিষ্কারের কৃতিত্বের জন্য পদার্থে নোবেল পুরস্কার পান কানাডীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জেমস পেবলস এবং সুইস নাগরিক মিচেল মেয়র ও ডিডিয়ের কুইলজ।

বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য এবার অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন তিন মার্কিন অর্থনীতিবিদ। নোবেল বিজয়ীরা হলেন- ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অভিজিৎ ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো ও মাইকেল ক্রেমার।

সাহিত্যে ২০১৯ সালের নোবেল পান অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার হান্ডকে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে স্থগিত থাকা পুরস্কারটি পান পোল্যান্ডের লেখক ওলগা তোকার্তুক। মঙ্গলবার হ্যান্ডকের পুরস্কার গ্রহণকে কেন্দ্র করে সম্মেলনস্থলের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে।

১৯৯৫ সালে সংঘটিত বসনিয়া গণহত্যা অস্বীকারের অভিযোগ রয়েছে হ্যান্ডকের বিরুদ্ধে। এছাড়া বলকানের কসাই হিসেবে পরিচিত সার্ব নেতা স্লোবদান মিলোসেভিচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন হ্যান্ডকে।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালে ২০০৬ সালে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন সার্বিয়ার নেতা মিলোসেভিচ।

হ্যান্ডকে সাহিত্যে নোবেল দেয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, ‘কোনো বর্ণবাদী ব্যক্তিকে নোবেল দেয়ার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই নোবেল দেয়া হয়েছে।’

১৯৯৮-১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধ চলাকালে হ্যান্ডকে লিখেছিলেন, যদি সার্বদের সমর্থন করো তাহলে আওয়াজ তোলো। তিনি দাবি করেন সারায়েভোর বসনিয়ান মুসলিমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করেছে।