আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়

১৯৪৬ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আইসিজেতে মামলা হয়েছে ১৭৮টি * রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিচারের দাবিতে গাম্বিয়ার করা মামলাসহ মোট ১৭টি মামলা বিচারাধীন

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত হল আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। এটি ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত। নেদারল্যান্ডসের শহর দ্য হেগে এ আদালত অবস্থিত। আইসিজে ১৫ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৪৬ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আইসিজেতে ১৭৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলার রায় এখনও হয়নি। এসব মামলার ৫০ শতাংশই হয়েছে গত ৩০ বছরে। ৭১ শতাংশই মামলা দায়েরের পর থেকে চার বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছে আইসিজে। আর ২৩ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে পাঁচ-নয় বছরের মধ্যে। বাকি ৬ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি করতে সময় লেগেছে ১০ বছর বা তার বেশি সময়। সর্বশেষ রোহিঙ্গা গণহত্যায় বিচারের দাবিতে গাম্বিায়ার মামলাসহ ১৭টি মামলা বিচারাধীন। আন্তর্জাতিক আদালতের নিষ্পত্তি হওয়া সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার বর্ণনা তুলে ধরা হল।

১৭ জুলাই, ২০১৯ : ভারত-পাকিস্তান- ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবের ফাঁসির আদেশ খারিজ করে দেয় আইসিজে। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানে গ্রেফতার হন তিনি। পরে পাকিস্তানের আদালত কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র- ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আদেশ দেয় আইসিজে। ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ফের অবরোধ আরোপ করে। ওই অবরোধ আরোপের অবসান চেয়ে আইসিজেতে আবেদন করেছিল তেহরান। আইসিজের বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে আদেশে বলেন, ইরানের কিছু পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ১৯৫৫ সালের ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী চুক্তির বিরোধী।

১ অক্টোবর ২০১৮ : বলিভিয়া-চিলি- আইসিজি রায়ে জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরে সার্বভৌম প্রবেশাধিকার দিতে চিলিকে বাধ্য করতে পারবে না স্থলবেষ্টিত বলিভিয়া। প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধের পর ১৯০৪ সালে বলিভিয়া তাদের বেশির ভাগ উপকূলীয় এলাকা চিলির কাছে সমর্পণ করে।

৫ অক্টোবর, ২০১৬ : যুক্তরাজ্য, ভারত ও পাকিস্তান বনাম মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ- তিনটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মার্শাল আইল্যান্ডসের মামলা দায়ের করে। অভিযোগ, ১৯৫৮ সালের আগের ১২ বছর ধরে দেশগুলোর বেশ কয়েকটি পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে দেশটির বহু বাসিন্দার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পক্ষে রায়ে আইসিজে পরমাণু যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেয়।

৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ : ক্রোয়েশিয়া-সার্বিয়া- ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া একে অন্যের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ তুলেছিল তা নাকচ করে দেয় আইসিজে। এর মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকের রক্তাক্ত বলকান যুদ্ধ মামলার সমাপ্তি হয়। ক্রোয়েশিয়া সরকারের অভিযোগ, সার্বিয়া ভুকোভার শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৯৯১ সালে গণহত্যা চালায়।

ফেব্রুয়ারি, ২০১২ : জার্মানি-ইতালি- আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অনাক্রম্যতা সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের মামলার নিষ্পত্তি করে। মামলার দুই পক্ষে ছিল দুই ইউরোপীয় রাষ্ট্র- জার্মানি ও ইতালি। কোর্ট সিদ্ধান্ত দেন যে, ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যকার ঘটনা নিয়ে জার্মান রাইখের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে মামলা করে ইতালি জার্মানির অনাক্রম্যতা সংক্রান্ত অধিকারের লঙ্ঘন করেছে।

জুন, ২০১২ : গিনি-গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- এ মামলায় গিনির এক নাগরিকের ওপর হামলা করার অভিযোগে ৯৫ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রকে নির্দেশ দেন আদালত।

জুলাই, ২০১২ : বেলজিয়াম-সেনেগাল- আফ্রিকার দেশ চাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেন হাব্রেকে বিচারের মুখোমুখি বা আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে হস্তান্তর করার ব্যাপারে বেলজিয়াম ও সেনেগালের মধ্যকার এক মামলায় আইসিজে তার সিদ্ধান্তে জানান, সেনেগাল যদি হিসেন হাব্রেকে হস্তান্তর নাও করে তবুও তার মামলাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করতে দেশটি বাধ্য।

ডিসেম্বর, ২০১২ : নিকারাগুয়া-কলম্বিয়া - সীমানা অধিকার বিষয়ক এক মামলায় নিকারাগুয়া ও কলম্বিয়ার মধ্যকার এক স্থল ও সমুদ্র সীমা সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করেন আইসিজে। এতে সর্বসম্মতিক্রমে ওই সামুদ্রিক এলাকার ওপর কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ জন বিচারকের সর্বসম্মতিক্রমে আদালত একটি একক সমুদ্রসীমা নির্দিষ্ট করে দেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×