অগ্নিগর্ভ আসাম

দিল্লির কথা ‘মানতে বাধ্য’, রাজ্য বলছে না

নাগরিকত্ব আইন : সাংবিধানিক সংকটের মুখে ভারত

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে আইনে পরিণত হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধন আইন মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির পাঁচটি রাজ্য। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন- কোনোটাই মানবেন না বলে ঘোষণা দেন। এর আগে কেরালা ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন।

পরে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্রিশগড়ও তাতে সুর চড়িয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন-২০১৯ মানতে বাধ্য রাজ্য সরকারগুলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধানের সপ্তম তফসিল অনুসারে রাজ্যগুলো এ আইন মানতে বাধ্য।’

কিন্তু তার উল্টো বলছে রাজ্যগুলো। ফলে ভারতে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের নিুকক্ষ লোকসভায় সিএবি পাস হয়। দু’দিন পর বুধবার সন্ধ্যায় উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার পরপরই আসামের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে আরও ফুঁসে ওঠে

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। আসামে পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত ৫ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার মেঘালয়ও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেখানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন সমাজে বিভাজন তৈরি করবে। তাই তাদের রাজ্যে এই আইন বলবৎ হবে না।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিল অসাংবিধানিক। পাঞ্জাবে এই বিল আটকাতে প্রয়োজনে আইন পাস করা হবে। যে কোনো বিল যা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে, তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়।’

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই জানিয়েছেন, ‘দেশের সংবিধান প্রত্যেক ভারতীয়কে জাত-ধর্ম-সংস্কৃতি-লিঙ্গ ও ভাষা নির্বিশেষে নাগরিকত্বের অধিকার দেয়। সংবিধানের দেয়া এই অধিকারই খর্ব করছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।’

এরপর শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও মুখ খুলেছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছেন, আইন পাস করলেই তো হল না। কার্যকর করবে তো রাজ্য সরকার। বাংলার সরকার ওই আইন কার্যকর করবে না, করবে না, করবে না!

শুক্রবার দিঘায় গণআন্দোলনের ডাক দিয়ে মমতা বলেন, ‘কোনো এনআরসি নয়, কোনো ক্যাব নয়। আইন পাস হলেও আমাদের সরকার তা কার্যকর করবে না। সবাইকে বলছি, ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সবাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করুন।

সব রাজ্যে গণআন্দোলন করুন। বাংলাতেও গণআন্দোলন গড়ে তুলুন।’

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি বাংলায় নাগরিকত্ব আইন মোতাবেক শরণার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না? নাকি তারা এ দেশের নাগরিক বলে যখন শাসক দল বা সরকার জানিয়ে দিচ্ছে, তখন তা করার আর প্রয়োজন নেই। কেননা কেন্দ্র-রাজ্য এই দ্বৈরথ মানুষের মনে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন।

ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও বলেন, ‘এ আইনটি অসাংবিধানিক। আমাদের রাজ্যে এ আইন বাস্তবায়ন হবে না। আমরা বিভাজনের রাজনীতির সাক্ষী হতে চাই না।’

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা মোদি সরকারের কোনো মন্ত্রী এখনও মুখ খোলেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, নাগরিকত্ব আইন হল একটি কেন্দ্রীয় আইন। তাদের কথায়, সংবিধানের সপ্তম তফসিলে তিন ধরনের তালিকা রয়েছে। কেন্দ্রীয় তালিকা, যৌথ তালিকা ও রাজ্যের তালিকা। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, রেল, নাগরিকত্বের মতো বিষয়গুলো কেন্দ্রের তালিকার অন্তর্গত।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকার যে আইন পাস করাবে তা রাজ্যগুলোকে মানতে হবে। এই আইন মানব না বলার সাংবিধানিক অধিকার তাই রাজ্যের নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে।

রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, আসলে নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর ভীত তৃণমূল। ওদের তুষ্টিকরণের রাজনীতিটা আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মানুষের সামনে। তাই এখন আইন মানব না বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রসঙ্গত, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, দিল্লি ও আসামে অমুসলমান শরণার্থীদের সংখ্যা সব থেকে বেশি। নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর এই রাজ্যগুলোতেই বেশি প্রভাব পড়ার কথা। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে একমাত্র আসামেই বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। বাকি রাজ্যগুলোতে ক্ষমতায় রয়েছে বিরোধীরা।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে শরণার্থী হওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার লক্ষ্যে আইনটি করা হয়েছে। হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা আছে আইনে। বিলটিতে মুসলিমরা না থাকায় এটি সাম্প্রদায়িক বলে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : আসামে বাঙালি সংকট

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত