পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম কার্যকর হবে নাগরিকত্ব আইন

সমর্থকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান মমতার

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য হবে বলে দাবি করেছেন ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘যতই নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করুন মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল কংগ্রেস, এ আইন চালু হবে পশ্চিমবঙ্গেও।’ নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। মমতার গণআন্দোলনের ডাক দেয়ার পর পরই ফুঁসে উঠেছে বাংলা। এ অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা সমর্থকদের আইন নিজের হাতে না তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে আসামে শাসকদল বিজেপি ছাড়ছেন অনেক নেতাই। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই দেশের আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে। প্রতিবাদের আগুনে বেশি জ্বলছে আসাম ও ত্রিপুরা। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। তবে এ আইনকে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যপূর্ণ এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার কেরালা, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মতোই নাগরিক আইনের বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রাজ্যজুড়ে বহু প্রতিবাদ মিছিল পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে। মমতা বলেন, কোনো পরিস্থিতিতে’ই এই আইন রাজ্যে কার্যকর হতে দেবেন না। পাশাপাশি ঘোষণা করেন একাধিক সভা করা হবে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সংসদে পাস হলেও আমরা নাগরিকত্ব বিল বাংলায় কার্যকর হতে দেব না। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিজেপি শাসিত নয় এমন রাজ্যগুলোতে জোর করে ‘অসাংবিধানিক’ আইন চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

মমতার এ অভিযোগের জবাবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা দিলীপ বলেন, ‘এর আগে মমতা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল ও নৈরাজ্যবাদের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কার্যকর হয়েছে ৩৭০ ধারা। একইভাবে নতুন নাগরিকত্ব আইনটিও রাজ্যে প্রয়োগ করবে বিজেপি সরকার।’ দিলীপ আরও বলেন, ‘কেন নাগরিক আইনের বিরোধিতা মুখ্যমন্ত্রী করছেন সেই বিষয়টি সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, তবে কি ভোট হারানোর ভয়ে এ আইন রাজ্যে কার্যকর হতে দিতে চাইছেন না মমতা? তাই যদি হয় তবে এক্ষেত্রে তাকে ও শাসকদলকে মাথায় রাখতে হবে, তারা চান বা না চান, কেন্দ্র খুব শিগগিরিই এ আইন সবার প্রথমে চালু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপি নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু শরণার্থীরা এ আইনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি তাদের মৌলিক অধিকার। তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করতে চান মমতা কোন অধিকারে?

মমতাকে একহাত নিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও। তিনি বলেছেন, প্রতি বারই নিজে ভুল বুঝে বাংলার মানুষকে ভুল পথে চালিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার এ প্রতিবাদ আন্দোলনেরও তাই কোনো মূল্য নেই। আসলে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের প্ররোচনা। পক্ষান্তরে তাদরকেই মদত দিচ্ছেন তিনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত