সরকার ভাঙল রাশিয়ায়

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ায় সংবিধান সংশোধনে প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে পদত্যাগ করেছে সরকার। বুধবার পার্লামেন্টে পুতিন জানান, দেশের সংবিধানের আমূল সংস্কার দরকার। এরপর পুতিনের ইশারাতেই একে একে ইস্তফা দেন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভসহ সরকারের অন্য মন্ত্রীরা। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সরকারি আমলা মিখাইল মিসুস্তিন। খবর এএফপির।

এদিন বছরের শুরুতে পার্লামেন্টে বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেন ভ­াদিমির পুতিন। সেখানেই তিনি তার প্রস্তাব পেশ করেন। পার্লামেন্টের শক্তি বৃদ্ধির জন্য রাশিয়া সংবিধানের সংস্কার প্রয়োজন। একটি গণভোটেরও প্রস্তাব দেন তিনি। তার কথায়, ‘আমার মনে হচ্ছে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি গণভোটের দাবি রাখে।’ যদিও ভোটগ্রহণের কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি তিনি।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কারের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। সুশাসনের লক্ষ্যে তাকে নিজের ইচ্ছামতো সংস্কার প্রস্তাব আনার সুযোগ দেয়া উচিত।’ যদিও সংস্কারের আগে পর্যন্ত কাজ করতে হবে বর্তমান সরকারকেই। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংশোধনী এনে পার্লামেন্টে সরকার গঠন করার বিষয়টি আইনি করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের কাজে তৃপ্ত না হলে যে কোনো সময়ে সেই সরকারকে ফেলে দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।

পুতিন অবশ্য বলছেন, জনমতকে আরও বেশি মর্যাদা দিয়ে রাশিয়ার ক্ষমতায়নের জন্যই এই পদক্ষেপ। মেদভেদেভের সরকারের পদত্যাগের পর মিসুস্তিনের নাম ঘোষণা করেন পুতিন। মিখাইল মিসুস্তিন ২০১০ সাল থেকে রাশিয়ার কর বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫৩ বছর বয়সী এই আমলা ১৯৯৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পুতিনের কাছে পদত্যাগপত্র দেয়ার পর দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, দেশটিতে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন না। ফলে ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুতিন বর্তমান সংবিধানের অধীনে আর রাশিয়ার নেতা থাকতে পারবেন না। তাই সংবিধান পরিবর্তনের এমন প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার স্থানীয় দৈনিক দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানের এই আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে পুতিন ভবিষ্যতে আবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় আসছেন। পুতিনের সমালোচকদের দাবি, অতীতের মতো সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেই এ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা তার।

পুতিন ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকার পর এক চালাকি করেন। সংবিধান সংশোধন করে তিনি প্রেসিডেন্টের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়িয়ে ওই বছর প্রধানমন্ত্রী হন। প্রেসিডেন্ট করেন দিমিত্রি মেদভেদেভকে। তারপর ২০১২ ও ২০১৮ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হন, তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালে। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

তার কয়েক মাস পর ইয়েলৎসিন অনেকটা নাটকীয়ভাবে পুতিনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেন। তারপর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে পুতিন রাশিয়ার নেতা। ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া পুতিনের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা না থাকা নিয়ে খোদ রাশিয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানারকম গুঞ্জন চলছে। তবে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত