চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ থামল

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র বাক্যবাণে পরস্পরকে জর্জরিত করা। চরম উত্তেজনা কিংবা পিছু হটে ‘যুদ্ধবিরতি’র নরম সুর। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ২ বছরের বাণিজ্য বিরোধে এর সবই দেখা গেছে। অবশেষে থামল সেই যুদ্ধ। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে বুধবারই একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন দুই দেশের নেতারা।

চীনা নেতারা এ চুক্তিকে বলছেন ‘উইন-উইন’ মানে দুই পক্ষই জয়ী হয়েছে। আর চুক্তিটিকে ‘বড় অর্জন’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, চুক্তি মার্কিন অর্থনীতিতে ‘পরিবর্তন ঘটাবে’। তবে প্রতিবেশী অর্থনৈতিক জায়ান্ট চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এ চুক্তিকে বিপদ হিসেবে দেখছে মালয়েশিয়া।

ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার এ বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয় মূলত ২০১৮ সালের জুন থেকে। চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দেশটির রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় চীনও।

এরপরই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন পণ্যসামগ্রী আমদানির পরিমাণ বাড়াবে চীন।

ইতিমধ্যে আগামী ২ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এর বিপরীতে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক স্থগিত রাখবে ওয়াশিংটন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে দুই দেশের মধ্যে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে চীনকে আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তার জিএম ফসল আমদানির আবেদন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের আহবান জানানো হয়েছিল। মূলত এরপরই নতুন করে মার্কিন দুই জিএম শস্য আমদানির সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং।

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রথম ধাপের মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মালয়েশিয়া বিপদ দেখছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধি করবে। আর এতে চীনে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

রয়টার্সকে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি এক কর্মকর্তা বলেছেন, গত বছর চীনে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় আড়াই মিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল। কিন্তু বুধবার বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তির কারণে চলতি বছরে চীনে পাম অয়েল রফতানি সীমিত হতে পারে।

যদিও দেশ দুটির জন্য এ আলোচনা রোলার কোস্টারের মতো ছিল। কিন্তু এ ২ বছরের বাণিজ্য আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি জায়গায় এসে থামতে পেরেছে।

ফল যাই হোক, এ বাণিজ্যযুদ্ধ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এমনকি বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির নতুন রূপ দিয়েছে নিঃসন্দেহে। ট্রাম্প স্কোর কার্ড হিসেবে দেখেছেন বাণিজ্য ঘাটতিকে এবং তিনি বিশ্বাস করেন শুল্কযুদ্ধ চীনের সঙ্গে তার দেশে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারে। হ্যাঁ তাই হয়েছে।

বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক কমেছে, যদিও এখনও তা অনেক বেশি আছে। নভেম্বর পর্যন্ত ১ বছরে আগের বছরের চেয়ে ঘাটতি কমেছে প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলার এবং এখন এ ঘাটতির পরিমাণ ছত্রিশ হাজার কোটি ডলার।

তবে এ ঘাটতি কমানোর মূল্য স্বরূপ দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য কমেছে প্রায় দশ হাজার কোটি ডলারের। ট্রাম্পের শুল্ক ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন আর তার সবচাইতে বড় আঘাত এসে পড়েছে মার্কিন কৃষকদের ওপরেই।

কারণ চীনে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজাত রফতানি আড়াই হাজার কোটি ডলার থেকে কমে এখন সাতশ’ কোটি ডলারের নিচে। এটাই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কম। কিন্তু চীনের কৃষি শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় সমস্যা তৈরি করেছে কিনা তা নিশ্চিত না।

ঘটনাপ্রবাহ : চীনে উইঘুর নির্যাতন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত