নাড্ডার হাতে বিজেপির ঝাণ্ডা
jugantor
নাড্ডার হাতে বিজেপির ঝাণ্ডা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনা বাধায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন জেপি (জগত প্রকাশ) নাড্ডা। অমিত শাহের থেকে তার কাঁধে দলের ঝাণ্ডা তুলে দিতে সোমবার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে বিজেপি। এ দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাড্ডা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় অমিত শাহের যোগ দেয়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল বিজেপির নতুন সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে। এতদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দলের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন মোদি সেনাপতি অমিত শাহ। খবর এনডিটিভির।

নয়া দলীয় কাণ্ডারিকে উপলক্ষ করে দলের সদর দফতরে বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নরেন্দ্র মোদির দল। সেই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি নাড্ডাকে অভিনন্দন জানান মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিদায়ী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সূত্রের দাবি, সভাপতি হিসেবে নাড্ডার নাম প্রস্তাব করেন দলের সংসদীয় বোর্ডের সাবেক তিন প্রধান- অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নীতিন গডকড়ি। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্যরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দলের সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা পর সকাল ১১টায় নাড্ডা মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্য কেউ ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় ভোটাভুটি ছাড়াই দুপুর তিনটার দিকে দলের সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডার নাম ঘোষণা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান রাধামোহন সিং।

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছিলেন নাড্ডা। আরএসএস’র কাছের লোক বলে পরিচিত তিনি। বিজেপি সভাপতি হিসেবে শাহের প্রথম পছন্দ ছিলেন নাড্ডাই। দলের সাধারণ সভাপতি বি এল সন্তোষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন নাড্ডা। ১৯৯৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে তিনবারের বিধায়ক ছিলেন জেপি নাড্ডা। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। ২০০৮-২০১০ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে স্বাস্থ্য, বন, পরিবেশ ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় সামলেছেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রথম মোদি সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নাড্ডা। ২০১৯ সালের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল নাড্ডাকে। এতদিন বিজেপির সভাপতি পদ সামলেছেন অমিত শাহ। কিন্তু গত বছর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হলে তার মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন অমিত শাহ। একসঙ্গে দুই দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয় বলে গত বছর জুন মাসেই তিনি নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানান। অমিত শাহ’র ওই চিঠির পর থেকেই তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের বর্ষীয়ান নেতা জেপি নাড্ডার নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জেপি নাড্ডা বিজেপির সভাপতি হলেও দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অমিত শাহ’র হাতেই থাকবে বলে দাবি দেশটির সমালোচকদের। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে অমিত শাহ’র মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে তাকে দায়িত্বে রাখা হয়।

নাড্ডার হাতে বিজেপির ঝাণ্ডা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনা বাধায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন জেপি (জগত প্রকাশ) নাড্ডা। অমিত শাহের থেকে তার কাঁধে দলের ঝাণ্ডা তুলে দিতে সোমবার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে বিজেপি। এ দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাড্ডা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় অমিত শাহের যোগ দেয়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল বিজেপির নতুন সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে। এতদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দলের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন মোদি সেনাপতি অমিত শাহ। খবর এনডিটিভির।

নয়া দলীয় কাণ্ডারিকে উপলক্ষ করে দলের সদর দফতরে বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নরেন্দ্র মোদির দল। সেই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি নাড্ডাকে অভিনন্দন জানান মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিদায়ী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সূত্রের দাবি, সভাপতি হিসেবে নাড্ডার নাম প্রস্তাব করেন দলের সংসদীয় বোর্ডের সাবেক তিন প্রধান- অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নীতিন গডকড়ি। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্যরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দলের সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা পর সকাল ১১টায় নাড্ডা মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্য কেউ ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় ভোটাভুটি ছাড়াই দুপুর তিনটার দিকে দলের সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডার নাম ঘোষণা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান রাধামোহন সিং।

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছিলেন নাড্ডা। আরএসএস’র কাছের লোক বলে পরিচিত তিনি। বিজেপি সভাপতি হিসেবে শাহের প্রথম পছন্দ ছিলেন নাড্ডাই। দলের সাধারণ সভাপতি বি এল সন্তোষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন নাড্ডা। ১৯৯৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে তিনবারের বিধায়ক ছিলেন জেপি নাড্ডা। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। ২০০৮-২০১০ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে স্বাস্থ্য, বন, পরিবেশ ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় সামলেছেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রথম মোদি সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নাড্ডা। ২০১৯ সালের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল নাড্ডাকে। এতদিন বিজেপির সভাপতি পদ সামলেছেন অমিত শাহ। কিন্তু গত বছর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হলে তার মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন অমিত শাহ। একসঙ্গে দুই দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয় বলে গত বছর জুন মাসেই তিনি নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানান। অমিত শাহ’র ওই চিঠির পর থেকেই তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের বর্ষীয়ান নেতা জেপি নাড্ডার নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জেপি নাড্ডা বিজেপির সভাপতি হলেও দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অমিত শাহ’র হাতেই থাকবে বলে দাবি দেশটির সমালোচকদের। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে অমিত শাহ’র মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে তাকে দায়িত্বে রাখা হয়।